ইউরেনিয়াম মজুদ না করতে সম্মত ইরান, শান্তি ‘নাগালের মধ্যে’: ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনার সময় ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওমানের শীর্ষ কূটনীতিক। তিনি এই অগ্রগতিকে একটি বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদি ২৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার আরও বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তির সব বিষয়ই তিনি মনে করেন কয়েক মাসের মধ্যেই “বন্ধুত্বপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গভাবে” সমাধান করা সম্ভব।ওয়াশিংটন ডিসিতে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদি বলেন, ‘শান্তিচুক্তি এখন আমাদের নাগালের মধ্যেই আছে…, যদি আমরা কূটনীতিকে তার প্রয়োজনীয় সুযোগ করে দিই।’২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তৃতীয় দফা পরোক্ষ আলোচনা ওমানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।আল বুসাইদি বলেন, ‘চূড়ান্ত লক্ষ্য যদি হয় স্থায়ীভাবে নিশ্চিত করা যে ইরান কখনো পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে পারবে না, তাহলে আমি মনে করি এই আলোচনার মাধ্যমে আমরা সেই সমস্যার সমাধানের পথ বের করেছি। আমরা এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতিতে সম্মত হয়েছি, যা আগে কখনো অর্জিত হয়নি।’তিনি আরও বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো—ইরান কখনোই এমন কোনো পারমাণবিক উপাদান রাখবে না, যা দিয়ে বোমা তৈরি করা সম্ভব।’তিনি যোগ করেন, ‘এখন আমরা শূন্য মজুদের কথা বলছি। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদান যদি মজুদ করাই না যায়, তাহলে বোমা তৈরির কোনো সুযোগই থাকে না।’তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থা আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর মাধ্যমে ‘পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত যাচাই-বাছাই’ থাকবে।ওমানের শীর্ষ এই কূটনীতিক আরও জানান, ইরান তাদের বর্তমান পারমাণবিক উপাদানের মজুদ “সম্ভব সর্বনিম্ন পর্যায়ে” নামিয়ে আনবে, যাতে তা “জ্বালানিতে রূপান্তরিত হয় এবং সেই জ্বালানি অপরিবর্তনীয় থাকে।”আল বুসাইদি বলেন, “এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি বিষয়। এতে সমৃদ্ধকরণ নিয়ে বিতর্কের গুরুত্ব অনেকটাই কমে যায়, কারণ এখন আমরা শূন্য মজুদের কথাই বলছি।”ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, “আমার বিশ্বাস, ইরান সব বিষয়েই আলোচনায় উন্মুক্ত।”সাম্প্রতিক জেনেভা বৈঠকে পর্যাপ্ত অগ্রগতি হয়েছে কি না, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলা ঠেকানো যায়, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি তাই আশা করি।’তিনি বলেন, ‘আমরা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছি। তবে এখনও কিছু খুঁটিনাটি বিষয় চূড়ান্ত করা বাকি রয়েছে। এ কারণেই একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি প্যাকেজ সম্পন্ন করতে আমাদের আরও কিছু সময় প্রয়োজন।’তিনি আরও যোগ করেন, তবে সামগ্রিক চিত্র হলো—একটি চুক্তি এখন আমাদের হাতের নাগালে।”শুক্রবার এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স-এর সঙ্গে বৈঠকের পর ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে মত দেওয়ার পাশাপাশি অন্যদিকে সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার প্রেক্ষাপটে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ মন্তব্য আসে।অন্যদিকে ট্রাম্প শুক্রবার বলেন, জেনেভায় অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনায় তিনি সন্তুষ্ট নন।ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “তারা যেভাবে আলোচনা করছে, তাতে আমরা ঠিক সন্তুষ্ট নই।” তিনি আরও যোগ করেন, ইরানের “চুক্তি করা উচি ‘। “তারা চুক্তি করলে বুদ্ধিমানের কাজ করবে,” বলেন তিনি।পরে ট্রাম্প বলেন, তিনি চাইবেন না যে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে হোক, “কিন্তু কখনও কখনও তা করতেই হয়।”যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা আরও পরোক্ষ আলোচনার জন্য আগামী সোমবার অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আবারও বৈঠকে বসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা।