• ঢাকা
  • |
  • রবিবার ১১ই শ্রাবণ ১৪৩৩ দুপুর ০১:০৯:২০ (26-Jul-2026)
  • - ৩৩° সে:
আরিফুল, বাবর-জি কে গউছ খালাস, ১ জনের মৃত্যুদণ্ড

আরিফুল, বাবর-জি কে গউছ খালাস, ১ জনের মৃত্যুদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক: সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত’র জনসভায় গ্রেনেড হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং সাবেক সংসদ সদস্য জি কে গউছকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় হাফিজ সৈয়দ নাঈম আহমেদ ওরফে নিমুকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।২৫ জুন বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবুল হোসেন।আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার নয়জন আসামির মধ্যে পাঁচজন কারাগারে ছিলেন, তিনজন জামিনে এবং একজন পলাতক। রায় ঘোষণার সময় পলাতক আসামি ছাড়া অন্য সবাই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায়ের আগে সকালে আরিফুল হক চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর ও জি কে গউছ আদালতে হাজির হন।রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, আরিফুল হক চৌধুরী, বাবর ও জি কে গউছের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। ফলে তাঁদের খালাস দেওয়া হয়।আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, মামলায় মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে তিনজন এর আগেই অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। বাকি ১০ জনের মধ্যে নয়জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। কেবল হাফিজ সৈয়দ নাঈম আহমেদ ওরফে নিমুর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে।মামলার নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। পরে ৭ এপ্রিল ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের বক্তব্য গ্রহণ করেন আদালত। সে সময় তাঁরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। হামলায় স্থানীয় যুবলীগের এক কর্মী নিহত হন এবং অন্তত ২৯ জন আহত হন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তও আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান।ঘটনার পর দিরাই থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর লুৎফুজ্জামান বাবর, আরিফুল হক চৌধুরী ও জি কে গউছসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলার বিচারকালে ১২৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় ২২ বছর ধরে চলা বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।