• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ২৯শে ফাল্গুন ১৪৩২ রাত ০২:৩৯:১৭ (14-Mar-2026)
  • - ৩৩° সে:
শ্রীপুরে ‘সবুজপাতা রিসোর্ট’ সিলগালা: এলাকাবাসীর ক্ষোভের মুখে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা

শ্রীপুরে ‘সবুজপাতা রিসোর্ট’ সিলগালা: এলাকাবাসীর ক্ষোভের মুখে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা

গাজীপুর (শ্রীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ভাংনাহাটি এলাকায় অবস্থিত ‘সবুজপাতা রিসোর্ট’ দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদকের আখড়ায় পরিণত হওয়ার অভিযোগে অবশেষে সিলগালা করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।১৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদুল ইসলাম এই অভিযান পরিচালনা করেন।​স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, এই রিসোর্টটি সামাজিক ও ধর্মীয় পরিবেশ বিনষ্ট করছিল। বিশেষ করে পাশেই একটি কবরস্থান থাকা সত্ত্বেও সেখানে উচ্চস্বরে গান-বাজনা, মাদক সেবন এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলত। এলাকাবাসী একে ‘জাহান্নামের রিসোর্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।অভিযোগ রয়েছে যে, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল রিসোর্টটি দখল করে নেয়। তারা রিসোর্টটিকে পতিতালয় ও মাদক বিক্রির নিরাপদ কেন্দ্রে পরিণত করে। যদিও রিসোর্টটির মালিক হিসেবে ‘ডিভি হারুন’ নামক এক ব্যক্তির নাম শোনা যায়, তবে বর্তমান পরিচালনায় সারোয়ার খান ও সামাদ মুন্সীসহ চারজন নিজেদের মালিক দাবি করে আসছিলেন। তারা অসামাজিক কার্যকলাপের বিষয়টি অস্বীকার করলেও স্থানীয়রা এর বিপক্ষে সরব ছিলেন।​এর আগে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকা অবস্থায় এক নারী ও তিন পুরুষকে আটক করে শ্রীপুর থানা পুলিশ। সে সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে রিসোর্টটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও, পাশের বাড়ি থেকে অবৈধভাবে লাইন টেনে কার্যক্রম পুনরায় সচল করা হয়।​শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাসিক আহমদ জানান "এলাকাবাসীর খবরের ভিত্তিতে গত কয়েকদিন আগে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকায় তিনজনকে আটক করা হয়েছিল। সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"অবশেষে আজ দুপুরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে রিসোর্টটি সিলগালা করে দেওয়ার মাধ্যমে এর কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে এলাকাবাসীর দাবি কেবল বন্ধ রাখাই নয়, বরং এই রিসোর্টটিকে কোনো গার্মেন্টস বা উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হোক। এতে এলাকার নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং এলাকার পবিত্রতা বজায় থাকবে।রিসোর্টটি পুনরায় যাতে কেউ অবৈধভাবে চালু করতে না পারে, সেজন্য প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।