জার্মানির রাজ্য নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থীদের ঐতিহাসিক জয়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে কট্টর ডানপন্থী দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)। ৬ সেপ্টেম্বর রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলে দলটি ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ৮৩ আসনের রাজ্য সংসদে এএফডি পেয়েছে ৩৯টি আসন।একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৪২টি আসন। ফলে সর্বোচ্চ ভোট পেলেও এককভাবে সরকার গঠন করতে পারছে না এএফডি।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির কোনো রাজ্যে কট্টর ডানপন্থী দল হিসেবে সরকার গঠনের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছানোর ঘটনা হিসেবে এ ফলকে দেখা হচ্ছে। ফল ঘোষণার পর এএফডির শীর্ষ প্রার্থী উলরিখ সিগমুন্ড সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, তারা স্যাক্সনি-আনহাল্টে ইতিহাস তৈরি করেছেন। দলের সহ-নেত্রী অ্যালিস ভাইডেলও এ ফলকে ‘অসাধারণ সাফল্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।তবে নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। জার্মানির প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে এএফডির সঙ্গে জোট বা সরকার গঠনে সহযোগিতা না করার নীতি অনুসরণ করে আসছে। দেশটির রাজনীতিতে এ নীতি ‘ফায়ারওয়াল’ নামে পরিচিত।চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্জের নেতৃত্বাধীন রক্ষণশীল খ্রিস্টীয় গণতান্ত্রিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) নির্বাচনের পরও এএফডির সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনা নাকচ করেছে। ফলে এএফডিকে বাদ দিয়ে অন্য দলগুলোর সমন্বয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠন সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।নির্বাচনে সিডিইউ পেয়েছে ১৭ দশমিক ২ শতাংশ ভোট ও ১৫টি আসন। সামাজিক গণতান্ত্রিক দল পেয়েছে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট, সবুজ দল ৮ দশমিক ৯ শতাংশ এবং বামপন্থী দল ৮ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট। সাহরা ভাগেনকনেখট জোট পেয়েছে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট ও পাঁচটি আসন। নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৭ দশমিক ৮ শতাংশ।স্যাক্সনি-আনহাল্টে এএফডির এই উত্থান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্জের জন্যও বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজ্যটিতে দীর্ঘদিন ধরে সিডিইউ নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল। এবার দলটির ভোট ২০২১ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিপরীতে এএফডি আগের নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি সমর্থন পেয়েছে।এএফডি অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ কঠোর করা, অনিবন্ধিত অভিবাসীদের বহিষ্কার এবং রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ইউক্রেনকে জার্মানির সামরিক ও আর্থিক সহায়তারও বিরোধিতা করে দলটি।স্যাক্সনি-আনহাল্টে এএফডির শাখাকে জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ডানপন্থী উগ্রবাদী সংগঠন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। তবে এএফডি এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে।জার্মানির জাতীয় সংসদেও এএফডি বর্তমানে সবচেয়ে বড় বিরোধী শক্তি। বিশেষ করে সাবেক কমিউনিস্ট শাসিত পূর্বাঞ্চলে দলটির জনসমর্থন তুলনামূলকভাবে বেশি। স্যাক্সনি-আনহাল্টের নির্বাচনের ফল দেশটির মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ভোটারদের অসন্তোষ এবং এএফডির ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে আরও স্পষ্ট করেছে।তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় সরকার গঠনে এএফডিকে অন্য দলের সমর্থন নিতে হবে। প্রধান দলগুলো জোটে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় রাজ্যটিতে সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দর-কষাকষি ও অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকতে পারে।সূত্র: রয়টার্স