• ঢাকা
  • |
  • বৃহঃস্পতিবার ৭ই কার্তিক ১৪৩৩ বিকাল ০৪:১৪:১৮ (22-Oct-2026)
  • - ৩৩° সে:
যুদ্ধ বন্ধে শর্তসাপেক্ষে ইউক্রেন-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে বসতে রাজি পুতিন

যুদ্ধ বন্ধে শর্তসাপেক্ষে ইউক্রেন-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে বসতে রাজি পুতিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আগামী ১০ নভেম্বর বা এর পর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে এ আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।২১ অক্টোবর বুধবার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে পুতিনের বৈঠকের পর এ তথ্য জানানো হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে বৈঠকটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।ক্রেমলিন জানিয়েছে, প্রস্তাবিত আলোচনায় যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইউক্রেন ও রাশিয়ার নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে। তবে দুই দেশের মধ্যে শান্তিচুক্তির শর্ত নিয়ে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের আগে রাশিয়া অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন শিক্ষক স্টিফেন হাবার্ডকে মুক্তি দেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে তাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য পুতিনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। বৈঠক শুরুর আগে এ মুক্তিকে সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরে রাশিয়া।এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি আলোচনা হয়েছিল। এরপর ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হলে সেই প্রক্রিয়া থেমে যায়।এদিকে নরওয়ের রাজধানী অসলোতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, ফিনল্যান্ড ও নরওয়ের নেতাদের পাশাপাশি ইউরোপীয় ও ন্যাটোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে উইটকফের বৈঠক নিয়েও আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে শান্তি উদ্যোগে কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলে উইটকফ পুতিনকে জানান। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেন, ইউক্রেন নতুন কিছু প্রস্তাব ও ধারণা তুলে ধরেছে।তবে ক্রেমলিনের কর্মকর্তা ইউরি উশাকভ জানান, আলোচনার কিছু দিক রাশিয়াকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি।পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে ইরান ইস্যুতেও যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তার প্রস্তাব দেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে রাশিয়ার কয়েক দশকের সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ দূর করতে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব।এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের সহায়তায় বিপুল পরিমাণ সার সরবরাহের প্রস্তাবও দেন পুতিন।আগামী মাসে চীনে পুতিন, ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ত্রিপক্ষীয় বৈঠক নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ক্রেমলিন জানিয়েছে, এ ধরনের বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বেইজিং।শান্তিচুক্তিতে এখনও বড় বাধাযুদ্ধ বন্ধের শর্ত নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের অবস্থান এখনও অনেক দূরে। পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা, ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের পথ বন্ধ করা এবং সাময়িক যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি নিশ্চিত করা—এসবই পুতিনের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে।বৈঠকে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির বিভিন্ন ধারণাসংবলিত কিছু নথি পুতিনের হাতে তুলে দেন উইটকফ। ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও কিছু প্রস্তাব জানাতে চেয়েছিলেন। পরে তিনি দূর থেকে ফোনে আলোচনায় যুক্ত হন।জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে পুতিন ও ট্রাম্পের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে আলোচনা করতে চান তিনি। তবে ক্রেমলিনের বক্তব্য, পুতিন ও জেলেনস্কির সরাসরি বৈঠক ফলপ্রসূ করতে হলে আগে থেকেই বিস্তারিত প্রস্তুতি নিতে হবে।যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন সম্পর্কে টানাপোড়েনরাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাণিজ্যসংক্রান্ত চুক্তির পর ওয়াশিংটন ও কিয়েভের সম্পর্কে টানাপোড়েন বেড়েছে। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্যে রাশিয়া থেকে ডিজেল রপ্তানির একটি চুক্তির কথা জানান ট্রাম্প।এরপর গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং ইউক্রেনের সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহারে বিঘ্ন ঘটার অভিযোগ তোলে কিয়েভ। তবে জেলেনস্কি জানিয়েছেন, অসলোতে মঙ্গলবারের বৈঠকে এসব সমস্যা সমাধানে সমঝোতা হয়েছে।এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বুধবার (২১ অক্টোবর) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ধনকুবের ইলন মাস্ক গত সপ্তাহে ইউক্রেনের ব্যবহৃত স্টারলিংক উপগ্রহ যোগাযোগব্যবস্থার সামরিক সংস্করণের কার্যক্রম ধীর করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ইউক্রেন রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের গতিবিধি শনাক্ত করতে এ ব্যবস্থা ব্যবহার করে। তবে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এ খবরের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।মাস্কের বক্তব্য, এ ধরনের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বা প্রেসিডেন্ট নিয়ে থাকেন। ট্রাম্পও এ সিদ্ধান্তের দায় অস্বীকার করেছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইউক্রেনের স্টারলিংক ব্যবহারের সক্ষমতা কমিয়ে দেয়নি ওয়াশিংটন।সূত্র: রয়টার্সএম এইচ আই