• ঢাকা
  • |
  • শুক্রবার ১লা কার্তিক ১৪৩৩ দুপুর ০১:৫৩:১৬ (16-Oct-2026)
  • - ৩৩° সে:
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যে কোনো আশঙ্কাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যে কোনো আশঙ্কাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি

ডেস্ক রিপোর্ট: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, এবারের শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনাকঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয় সেজন্য আমরা যে কোনো আশঙ্কাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। তিনি আরও বলেন, পূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।১৬ অক্টোবর  শুক্রবার দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে ডিএমপি কমিশনার এসব কথা বলেন।মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। প্রতিবছর রাজধানীতে আনন্দ, উৎসব, উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এই উৎসবকে ঘিরে প্রতিবছর রাজধানীতে সম্প্রীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ঢাকা মহানগরে শারদীয় দুর্গোৎসব যেন শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হতে পারে সে লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।এ বছর ঢাকা মহানগরে সর্বমোট ২৫৭টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি মণ্ডপের গুরুত্ব, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মণ্ডপগুলোকে চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে। এসব মণ্ডপে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা পুলিশের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে সিসি ক্যামেরা এবং বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি করা হচ্ছে। এছাড়া, গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে আর্চওয়ে স্থাপন করা হয়েছে যেন নিরাপত্তা ও তল্লাশি কার্যক্রম কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়।আরও পড়ুন: ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমানকমিশনার বলেন, পূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির বিভিন্ন বিভাগের পুলিশ সদস্যদের সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে নিয়মিত ডিউটির অতিরিক্ত হিসেবে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে সর্বমোট ২ হাজার ১০০ জন পুলিশ সদস্য ২৫৭টি পূজামণ্ডপে ডিউটিতে নিয়োজিত থেকে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। পূজামণ্ডপের আশপাশে নিয়মিত টহল, সন্দেহজনক ব্যক্তি এবং বস্তু সম্পর্কে সতর্ক নজরদারি এবং যে কোনো অনাকঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সোয়াট, বোম ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড এবং ক্রাইম সিন ইউনিট সর্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।তিনি বলেন, বিজয়া দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে রাজধানীতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে বিসর্জন শোভাযাত্রা শুরু হয়ে ওয়াইজঘাট গিয়ে শেষ হবে। শোভাযাত্রার পথ, জনসমাগম এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সভার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে শোভাযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখা এবং জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ডিএমপি কমিশনার বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনাকঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয় সেজন্য আমরা যে কোনো আশঙ্কাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। কেউ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট কিংবা উৎসবের পরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টা করলে সমন্বিতভাবে সেটাকে প্রতিহত করা হবে। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।আরও পড়ুন: পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে ২০ অক্টোবর চট্টগ্রাম যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীতিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, ভুল তথ্য এবং অপতথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা দেখা যায়। দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে এই ধরনের অপপ্রচার প্রতিরোধে ডিএমপির সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। কোনো তথ্য যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার না করার জন্য আমি নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। কোনো সন্দেহজনক ঘটনা অথবা নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য চোখে পড়লে দ্রুত নিকটস্থ থানা অথবা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর জন্য আমি নগরবাসীকে অনুরোধ করছি।আসন্ন ডিসেম্বর ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে। এ নিয়ে পূজায় কোন নাশকতার শঙ্কা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নাশকতায় আশঙ্কা বা ভীতি সঞ্চারের আশঙ্কা আমাদের কাছে এ পর্যন্ত নেই, কোনো তথ্য নেই। কিন্তু আমরা প্রস্তুত আছি যে কোনো ধরনের নাশকতার চেষ্টা, যে কোনো ধরনের ভীতি সঞ্চারের চেষ্টা আমরা খুব শক্তভাবে দমন করবো।মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, ঢাকা মহানগরে আমাদের নয়টি বৃহৎ মণ্ডপ রয়েছে। সেই নয়টি বৃহৎ মণ্ডপে আমাদের পুলিশ এবং আনসার সদস্য মিলে ৫০ জন করে সদস্য দায়িত্ব পালন করে। অন্যান্য মণ্ডপগুলোতে শ্রেণিবিভাগ ভেদে সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে। আমাদের প্রত্যেকটি মণ্ডপে যে সিসি ক্যামেরা আছে। সেই সিসি ক্যামেরা আমাদের ডিএমপির কন্ট্রোলরুমে সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। আমরা ২৪ ঘণ্টা ডিএমপির কন্ট্রোলরুমে বসে এই ২৫৭ টি পূজামণ্ডপের যে পরিস্থিতি সেটি পর্যবেক্ষণ করবো। পাশাপাশি আমাদের সবগুলো পূজামণ্ডপে যারা পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের বডিওর্ন ক্যামেরা দেওয়া আছে, সেই ক্যামেরার মাধ্যমেও আমরা আমাদের ডিএমপি কন্ট্রোলরুম থেকে লাইভ মনিটরিং করবো।