ছিন্নমূল মানুষের সঙ্গে মাটিতে বসে খাবার খেলেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী
ডেস্ক রিপোর্ট: মোংলায় স্থানীয় যুবসমাজের উদ্যোগে পরিচালিত ‘একবেলার মেহমানখানা’য় আকস্মিক উপস্থিত হয়ে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের সঙ্গে মাটিতে বসে দুপুরের খাবার খেয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।৯ অক্টোবর শুক্রবার জুমার নামাজের পর মোংলা পোর্ট পৌরসভা এলাকায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। এ সময় অসহায় মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের সঙ্গে কিছু সময় কাটান প্রতিমন্ত্রী।মোংলা পোর্ট পৌরসভা ও আশপাশের গ্রামের অসহায়, দুস্থ, ভিক্ষুক ও ছিন্নমূল মানুষের মুখে সপ্তাহে অন্তত একবেলা পুষ্টিকর খাবার তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে স্থানীয় যুবসমাজ এ উদ্যোগ নিয়েছে। নিজস্ব অর্থায়ন, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা এবং স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে গত এক বছর ধরে প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর এ আয়োজন করা হচ্ছে।শুক্রবার মোংলায় সরকারের পূর্বনির্ধারিত কয়েকটি প্রশাসনিক কর্মসূচি শেষে স্থানীয় যুবকদের এ মানবিক উদ্যোগের কথা জানতে পারেন প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। পরে কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই তিনি সরাসরি মেহমানখানার আয়োজনে উপস্থিত হন।সেখানে চেয়ার-টেবিলে না বসে মাটিতে চট বিছিয়ে বসে থাকা অসহায় মানুষের পাশে বসে দুপুরের খাবার খান তিনি। এ সময় তাঁদের খোঁজখবরও নেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী, সহকারী কমিশনার (ভূমি), মোংলা থানার পুলিশ কর্মকর্তা এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনিসহ রাজনৈতিক নেতারাও খাবার গ্রহণ করেন।খাবার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, জাঁকজমকপূর্ণ সমাজের আড়ালে এখনো বহু অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষ রয়েছেন, যাঁরা দুবেলা খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খান। তাঁদের অনেকে একবেলা ভালো খাবারও পান না। এসব মানুষের জন্য সপ্তাহে অন্তত এক দিন ভালো খাবারের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ অত্যন্ত মহৎ ও প্রশংসনীয়।প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করতে বিত্তবানসহ সর্বস্তরের মানুষের এ ধরনের মানবিক কাজে এগিয়ে আসা উচিত। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হবে এবং মানুষ একে অপরের সুখ-দুঃখের প্রকৃত সঙ্গী হয়ে উঠতে পারবে।সূত্র: বাসস