• ঢাকা
  • |
  • বৃহঃস্পতিবার ১৮ই আষাঢ় ১৪৩৩ দুপুর ০২:১০:৫০ (02-Jul-2026)
  • - ৩৩° সে:
মাছ চাষে বিশ্বসেরা পাঁচে বাংলাদেশ

মাছ চাষে বিশ্বসেরা পাঁচে বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ মৎস্যচাষী দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ আহরণে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদনকারী দেশের অবস্থানও ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রকাশিত ‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২৬’ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে মৎস্য ও মৎস্যচাষ খাতে মোট উৎপাদন রেকর্ড ২৩ কোটি ৫০ লাখ টনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে জলজ প্রাণীর উৎপাদন ছিল ১৯ কোটি ৫০ লাখ টন এবং শৈবালের উৎপাদন ৪ কোটি টন। ২০২২ সালের তুলনায় মোট উৎপাদন বেড়েছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ।বিশ্বের মোট উৎপাদনের ৬৭ শতাংশ এসেছে সামুদ্রিক অঞ্চল থেকে। এর মধ্যে ৫১ শতাংশ উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ আহরণ এবং ৪৯ শতাংশ মৎস্যচাষের মাধ্যমে উৎপাদিত হয়েছে। বাকি ৩৩ শতাংশ উৎপাদন হয়েছে অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে, যার ৮৪ শতাংশই এসেছে মৎস্যচাষের মাধ্যমে।মৎস্য ও জলজ চাষে এশিয়ার আধিপত্য এখনো অটুট। বৈশ্বিক উৎপাদনের ৭৬ শতাংশই এসেছে এশিয়া থেকে। এরপর রয়েছে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল (৮ শতাংশ), ইউরোপ (৭ শতাংশ), আফ্রিকা (৬ শতাংশ), উত্তর আমেরিকা (২ শতাংশ) এবং ওশেনিয়া (১ শতাংশ)।শীর্ষ পাঁচ মৎস্যচাষী দেশ২০২৪ সালে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ মৎস্যচাষী দেশ হলো—চীন, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, ভিয়েতনাম, বাংলাদেশএই পাঁচ দেশ মিলেই বিশ্বের মোট মৎস্যচাষ উৎপাদনের ৮৪ শতাংশ সরবরাহ করেছে।অন্যদিকে জলজ প্রাণী উৎপাদনের ক্ষেত্রে এককভাবে শীর্ষে রয়েছে চীন, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের ৫৬ শতাংশ জোগান দিয়েছে। এরপর রয়েছে ভারত (১২ শতাংশ), ইন্দোনেশিয়া (৬ শতাংশ), ভিয়েতনাম (৫ শতাংশ) এবং বাংলাদেশ (৩ শতাংশ)। এই পাঁচ দেশ মিলেই মোট উৎপাদনের ৮২ শতাংশ সরবরাহ করেছে।অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে দ্বিতীয় বাংলাদেশঅভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ আহরণে ২০২৪ সালে ২২ লাখ টন উৎপাদন নিয়ে শীর্ষে ছিল ভারত। ১৪ লাখ টন উৎপাদন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।রেকর্ড উৎপাদনপ্রতিবেদন বলছে, ২০২৪ সালে বিশ্বে মৎস্যচাষ খাতে মোট উৎপাদন রেকর্ড ১৪ কোটি ২০ লাখ টনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে জলজ প্রাণীর উৎপাদন ছিল ১০ কোটি ৩০ লাখ টন এবং শৈবালের উৎপাদন ৩ কোটি ৯০ লাখ টন।মৎস্যচাষে উৎপাদিত জলজ প্রাণীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই এসেছে অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে। এর মধ্যে ৮৯ শতাংশ ছিল পাখনাযুক্ত মাছ, ৯ শতাংশ খোলসযুক্ত জলজ প্রাণী এবং বাকি অংশ ছিল কচ্ছপ, ব্যাঙ, মোলাস্ক ও অন্যান্য অমেরুদণ্ডী প্রাণী।এদিকে সামুদ্রিক ও উপকূলীয় মৎস্যচাষে ২০২৪ সালে উৎপাদিত হয়েছে ৩ কোটি ৮০ লাখ টন জলজ প্রাণী। এর মধ্যে ৫৩ শতাংশ ছিল মোলাস্ক, ২৪ শতাংশ পাখনাযুক্ত মাছ, ২২ শতাংশ খোলসযুক্ত জলজ প্রাণী এবং ২ শতাংশ অন্যান্য সামুদ্রিক অমেরুদণ্ডী প্রাণী।এফএওর মতে, বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জলজ খাদ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে মৎস্যচাষ খাতের গুরুত্ব ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।সূত্র: নিউজ ২৪