বর্তমান প্রশাসন নিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন করা যাবে : মন্ত্রিপরিষদ সচিব
নিজস্ব প্রতিবেদক : বর্তমান প্রশাসন নিয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ। কোথাও বিচ্যুতি পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।তফসিলের আগে নিয়োগ দেওয়া ডিসিদের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। এই প্রশাসন নিয়ে আপনি কি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে আশাবাদী—এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আমি তো এখনো আশাবাদী, করা যাবে, ইনশাআল্লাহ্।’তিনি বলেন, ‘অভিজ্ঞতা তো সবাই নিয়ে আসে না। অভিজ্ঞতা তো তৈরি হয়। অবস্থায় পড়লে অভিজ্ঞতা তৈরি হয়। তারা সঠিক পথে চলবেন, চলতে পারবেন—এটি যদি আমরা নিশ্চিত করতে পারি, তাদের মনোভাব যদি সঠিক থাকে, তাহলে তারা সফল হবেন, ১০০ ভাগ সফল হবেন, ইনশাআল্লাহ্।’তিনি আরও বলেন, আমরা যদি কোনো বিচ্যুতি দেখতে পাই, তাহলে সেভাবে ব্যবস্থা নেবো। ঢালাওভাবে তো কিছু নয়। আমরা সাধারণভাবে মনে করছি তারা (মাঠ প্রশাসন) প্রস্তুত আছেন, যোগ্য আছেন। যদি সুনির্দিষ্টভাবে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায় অবশ্যই সেটা তাৎক্ষণিকভাবে বিবেচনা করবো।নির্বাচনের আর মাত্র এক মাস বাকি আছে। এখন প্রশাসনের প্রস্তুতি কী? এছাড়া বিভিন্ন অভিযোগ আছে মাঠপর্যায়ের প্রশাসন নিয়ে। গতকাল এক রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে- এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রশাসনের কাজ স্ট্যাটিক কোনো বিষয় না যে অঙ্ক করে হয়। এক একটা অবস্থা তৈরি হয়, এক একটা ঘটনা থাকে, সেই ঘটনা অনুযায়ী তারা কাজ করে থাকে। মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের জেলা প্রশাসক যারা আছেন, তারা তো রিটার্নিং অফিসার হিসেবে কাজ করছেন। আপনারা জানেন যে রিটার্নিং অফিসারের প্রথম দিকের যে কাজ থাকে তার মধ্যে একটা মনোনয়নপত্র গ্রহণ এবং সেটা বাছাই করা। সেই কাজটা হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও কোনো কোনো ক্যান্ডিডেট অথবা তাদের পক্ষ অথবা অন্য পক্ষ কেউ কেউ ক্ষুব্ধ আছেন। আইন অনুযায়ী সেটার ব্যবস্থা হচ্ছে। আপিলের প্রক্রিয়া এই মুহূর্তে চলছে। এরপর নির্বাচন কমিশন সেগুলো বিবেচনা করবে, আপিল নিষ্পত্তি করবে।তিনি বলেন, আপনারা প্রশাসনের পক্ষপাত ইত্যাদি যে কথাগুলো বলছেন, এই এই ধরনের অভিযোগ আপনারা এর আগেও শুনেছেন, এখনো শুনছেন। এখন কেউ না কেউ কোনো কারণে ক্ষুব্ধ হলে তিনি এ ধরনের কথা বলে থাকেন। এখন মুক্ত তথ্য প্রবাহের যুগ, এ সময় সবাই সেভাবে কথা বলবেন। আমরাও চেষ্টা করবো যদি আমাদের কোনো ত্রুটি থাকে আমাদের মাঠ প্রশাসনে বা অন্য কোনো লেভেলে, আমরা সেটা সমাধানের চেষ্টা করবো। সব কেসই মেরিটের ভিত্তিতে আমরা সিদ্ধান্ত নেবো।গতকাল একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ডিসিদের রদবদলের কথা বলেছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আব্দুর রশীদ বলেন, আমরা রদবদলের কথা তো বলতে বলছি না। তবে নির্বাচন কমিশন যদি কনভিন্সড হয়, তারা যদি মনে করেন যে রদবদল প্রয়োজন, তাহলে তারা বলবেন। তখন না আমরা সেটা বিবেচনা করবো, সেইভাবে ব্যবস্থা নেবো। কারণ নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত বা অভিমতের এখন অনেক বেশি মূল্য। সেটা আমরা অনার করার চেষ্টা করবো। তো তারা কনভিন্সড হোক আগে।কিন্তু, নির্বাচনের আগে যে অভিযোগটা মাঠ প্রশাসনের প্রতি সেটি নিয়ে আপনি কী বলবেন- এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আমি এখন পর্যন্ত সেরকম কিছু দেখিনি। কোথাও কোথাও কোনো কোনো সিদ্ধান্তে কেউ কেউ সন্তুষ্ট হননি। এটা হতেই পারে, এটা সবার সিদ্ধান্ত এক রকম হয়, তা তো নয়। আর সব ক্যান্ডিডেটেরও পরিস্থিতি তো এক রকম ছিল না। সুতরাং কিছু কিছু পরিবর্তন হতেই পারে। এখানে তো তাৎক্ষণিক ডিসিশন নিতে হয়। তারা তাৎক্ষণিক বিবেচনায় যেটা সবচাইতে উপযুক্ত মনে করেছেন সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেটা যদি সঠিক না হয়ে থাকে তাহলে তো আপিলের সুযোগ আছে। সেই সুযোগ এখন প্রত্যেক ক্যান্ডিডেটই নিচ্ছেন। শত শত ক্যান্ডিডেটই আপিল করেছেন বা আরও করছেন, আজকেও করবেন। এরকম শুনতে পেয়েছি। দেখা যাক সেগুলো।