• ঢাকা
  • |
  • রবিবার ৫ই আশ্বিন ১৪৩৩ সন্ধ্যা ০৭:১২:১৫ (20-Sep-2026)
  • - ৩৩° সে:
মক্কা প্রতিরক্ষা জোট হবে ‘গেম চেঞ্জার’: তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মক্কা প্রতিরক্ষা জোট হবে ‘গেম চেঞ্জার’: তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানকে নিয়ে গঠিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোটকে ‘গেম চেঞ্জিং প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে বর্ণনা করেছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, জোটটির সদর দপ্তর ও সচিবালয় প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তার ভাষায়, এটি হবে ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার মতো একটি প্ল্যাটফর্ম’। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পর জোটে নতুন সদস্য নেওয়ার বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার তুরস্কের টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভিকে পররাষ্ট্রনীতি ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাকান ফিদান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এই প্রতিরক্ষা জোটের পেছনে তিন দেশের ‘খুব শক্তিশালী রাজনৈতিক সদিচ্ছা’ রয়েছে। সেই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে বাস্তবে রূপ দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে তুরস্ক।ফিদান বলেন, ‘মক্কা জোট এখন সত্যিই ভালো একটি পর্যায়ে রয়েছে। এ জোট গঠনের বিষয়ে খুব শক্তিশালী সদিচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করছি’। তিনি আরও বলেন, ‘মক্কা জোট খুবই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার মতো একটি প্ল্যাটফর্ম হবে।’ফিদান জানান, জোটটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার কাজ এগিয়ে চলছে। বিশেষ করে চুক্তিতে উল্লেখ করা সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং এর সঙ্গে যুক্ত একটি সামরিক সদর দপ্তর চালুর প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, দুটি কাঠামো কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে তিন দেশ একটি অভিন্ন বোঝাপড়ায় পৌঁছেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তুতিও ‘প্রায় সম্পন্ন’ হয়েছে।ফিদান বলেন, ‘জোটটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য বর্তমানে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে চুক্তিতে উল্লেখ করা সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং এর সঙ্গে যুক্ত সামরিক সদর দপ্তর চালুর কাজ প্রায় শেষ।’তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটি অভিন্ন বোঝাপড়ায় পৌঁছেছি। এখন বাকি রয়েছে জনবল পাঠানো এবং সদর দপ্তরকে কার্যকর করা। এ বিষয়ে যে অগ্রগতি হয়েছে, তাতে আমি সন্তুষ্ট।’ফিদান জানান, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির কাজ শেষ হলে জোটে নতুন সদস্য নেওয়ার বিষয়ে অপর দুই প্রতিষ্ঠাতা দেশের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে।তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। কারণ, আমাদের প্রেসিডেন্ট শুরু থেকেই এ কথা বলে আসছেন। এই জোট যদি বড় না হয়, তাহলে এটি কোনো জোটের ক্ষেত্র হয়ে উঠবে না; বরং আমরা একটি ব্লক তৈরি করব।’ফিদান বলেন, ‘আমাদের আঞ্চলিক ভাবনা হলো, এ অঞ্চলের যত বেশি সম্ভব দেশকে একত্র করে একটি অভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।’তিনি বলেন, ‘এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাইরের কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়। বরং আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের উদ্যোগে এ অঞ্চলের সমস্যাগুলো আরও ভালোভাবে সমাধান করা এবং এমন একটি আস্থার পরিবেশ তৈরি করাই এর লক্ষ্য, যা আগে ছিল না। এর মাধ্যমে নতুন সংকট তৈরি হওয়া ঠেকানো সম্ভব হবে। সবকিছুর মূল ভিত্তি হলো—আঞ্চলিক সমস্যার আঞ্চলিক সমাধান খোঁজা।’ফিদান জোর দিয়ে বলেন, অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে নতুন আঞ্চলিক জোট বা ব্লক তৈরি করা মক্কা জোটের উদ্দেশ্য নয়। বরং আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের উদ্যোগে একটি অভিন্ন প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলাই এর লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘এটি এ অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য উন্মুক্ত একটি জোট।’এক প্রশ্নের জবাবে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটকে অকার্যকর বলা এখনই ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন ফিদান। তিনি বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই জোটটির প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।ফিদান বলেন, ‘ন্যাটোকে কেউ কাগুজে বাঘ বা কাগজের তৈরি কোনো সংগঠন বলেনি। অথচ মাত্র তিন মাস আগে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির পর এত দ্রুত কাজ এগিয়ে যাওয়ার পরও এটিকে এভাবে বর্ণনা করা হচ্ছে।’তিনি বলেন, ‘আসলে যারা এ ধরনের মন্তব্য করছেন, তাদের হুমকি সম্পর্কে ধারণাই এর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। আমরা এসব মন্তব্য দেখি এবং মূল্যায়ন করি। তবে এগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়ার মতো বিষয় নয়।’ফিদান বলেন, ‘আপনারা দেখতে পাবেন, মক্কা জোট গেম চেঞ্জিং তথা খুবই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার মতো একটি প্ল্যাটফর্ম হবে।’সূত্র: আনাদোলু