• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ২৭শে আষাঢ় ১৪৩৩ বিকাল ০৫:৩০:৩৩ (11-Jul-2026)
  • - ৩৩° সে:
দেওয়ানগঞ্জে রাতের আঁধারে মেয়ে নাচিয়ে ভুয়া ওষুধ বিক্রির অভিযোগ

দেওয়ানগঞ্জে রাতের আঁধারে মেয়ে নাচিয়ে ভুয়া ওষুধ বিক্রির অভিযোগ

জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুর দেওয়ানগঞ্জে রাতের আঁধার নামতেই জমে ওঠে গানের আসর। চটুল সুরের তালে তালে চলে তরুণীদের নাচ। দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসে শত শত উৎসুক মানুষ। কিন্তু বিনোদনের এই জমকালো আয়োজনের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়ংকর প্রতারণার জাল।এটা কোনো মেলা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, এটি আসলে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের নিত্যদিনের চিত্র। সুকৌশলে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করে বিক্রি করা হচ্ছে ক্ষতিকারক ও ভুয়া ওষুধ।অনুসন্ধানে জানা যায়, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ৩নং পাররামরামপুর ইউনিয়নের ঝাউডাঙ্গাসহ বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এই প্রতারক চক্র। প্রতিদিন সূর্যাস্তের পর ফাঁকা মাঠ কিংবা বাজারের কোণে তাঁবু খাটিয়ে বসে এই অবৈধ আসর।স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় রাতের আঁধারে এখানে তরুণীদের নাচানো হয়। আর সেই আকর্ষণে জড়ো হওয়া সরল সোজা গ্রামীণ মানুষকে টার্গেট করে বিক্রি করা হচ্ছে কোনো লাইসেন্স ও অনুমোদনহীন ভুয়া ওষুধ।আক্কছ আলি বলেন, তারা বলে এই ওষুধ খেলে বাত-ব্যথা, গ্যাস্ট্রিকসহ সব ভালো হবে। নাচ-গান দেখে বিশ্বাস করে ৫০০ টাকা দিয়ে কিনছিলাম। খাওয়ার পর থেকে পেট ব্যথা আরও বাড়ছে। ‘এডি সব ভুয়া, আমাদের টাকাটা লস’।ক্যানসার, গ্যাস্ট্রিক, প্যারালাইসিস কিংবা বাতের ব্যথার মতো জটিল রোগ নিমেষেই নিরাময়ের অবাস্তব গ্যারান্টি দেওয়া হয় এই আসর থেকে। চটকদার কথার ফাঁদে ফেলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে হাজার হাজার টাকা।এই ধরনের ফুটপাতে বা অবৈধ আসরে বিক্রি হওয়া ওষুধে সাধারণত উচ্চমাত্রার স্টেরয়েড বা নিষিদ্ধ কেমিক্যাল মেশানো থাকে। সাময়িকভাবে একটু আরাম বোধ হলেও, এগুলো দীর্ঘমেয়াদে মানুষের লিভার, কিডনি সম্পূর্ণ বিকল করে দিতে পারে। এমনকি স্ট্রোক বা মৃত্যুর কারণও হতে পারে।ঝাউডাঙ্গাসহ পাররামরামপুর ইউনিয়নের সচেতন মহলের দাবি, এই রমরমা ভুয়া ওষুধের ব্যাবসা এবং রাতের বেলায় তরুণী নাচানোর নামে এই সামাজিক অবক্ষয় দ্রুত বন্ধ করা হোক।দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, রাতের আঁধারে যারা মেয়ে নাচিয়ে লাইসেন্সবিহীন ভুয়া ওষুধ বিক্রি করে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা খুব দ্রুতই ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোট ) পরিচালনা করব এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেব।