২০৩০ সালের মধ্যে এক লাখ কর্মী ছাঁটাই করবে ভক্সওয়াগন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জার্মান গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভক্সওয়াগন গ্রুপে আরও প্রায় ৫০ হাজার পদ কমানোর পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে কোম্পানিটির তত্ত্বাবধায়ক বোর্ড। আগের ঘোষিত প্রায় ৫০ হাজার কর্মী কমানোর পরিকল্পনার সঙ্গে নতুন এই সংখ্যা যোগ হওয়ায় ২০৩০ সালের মধ্যে মোট প্রায় এক লাখ পদ কমানোর পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ভক্সওয়াগনের তত্ত্বাবধায়ক বোর্ড ‘ফিউচার প্ল্যান ২০৩০’ নামে বড় ধরনের পুনর্গঠন পরিকল্পনাটি অনুমোদন করে। কোম্পানিটির ৮৯ বছরের ইতিহাসে এটিকে সবচেয়ে বড় পুনর্গঠন উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।ভক্সওয়াগন গ্রুপের অধীনে ভক্সওয়াগন ছাড়াও অডি, পোর্শা, স্কোডা, সিয়াট, বেন্টলি ও ল্যাম্বরগিনিসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ড রয়েছে। নতুন পরিকল্পনায় ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের পদসহ বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার পদ কমানোর প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।ভক্সওয়াগনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অলিভার ব্লুমে বলেন, এই পরিকল্পনা কোম্পানিটির ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা। একই সঙ্গে পুরো কর্মীবাহিনী ও বিশ্বজুড়ে শিল্প খাতের কর্মসংস্থানের প্রতি দায়িত্বশীল থাকার কথাও জানান তিনি।কোম্পানিটি জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, গাড়ির চাহিদার পরিবর্তন এবং প্রযুক্তিগত রূপান্তরের কারণে কর্মীসংখ্যার সঙ্গে ব্যবসায়িক বাস্তবতার সামঞ্জস্য তৈরি করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।পুনর্গঠন পরিকল্পনার আওতায় জার্মানির এমডেন, জভিকাউ, হ্যানোভার ও নেকারসুল্ম কারখানার ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ২০৩১ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এসব কারখানায় নতুন গাড়ির উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। বিকল্প ব্যবহারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি।ভক্সওয়াগনের ওপর চাপের অন্যতম কারণ চীনা গাড়ি নির্মাতাদের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা, ইউরোপে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি শুল্ক। বিশেষ করে চীনের বাজারে স্থানীয় নির্মাতাদের প্রতিযোগিতার কারণে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রি ও মুনাফায় চাপ তৈরি হয়েছে।নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভক্সওয়াগন ২০৩৫ সালের মধ্যে তাদের গাড়ির মডেলের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনারও পরিকল্পনা করেছে। কমসংখ্যক মডেলে উৎপাদন বাড়িয়ে ব্যয় কমানো এবং লাভজনকতা বাড়ানোই এর লক্ষ্য।সূত্র: বিবিসি