• ঢাকা
  • |
  • রবিবার ৩রা কার্তিক ১৪৩৩ দুপুর ০২:৪৩:৫০ (18-Oct-2026)
  • - ৩৩° সে:
অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানীর গেন্ডারিয়ার রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে ব্যক্তিগত লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।তার দাবি, মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে হামলার আশঙ্কা থাকায় আত্মরক্ষার স্বার্থে তিনি ও তার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর অস্ত্র যথাস্থানে রাখা হয়।১৮ অক্টোবর রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা জানান।তার দাবি, গত ১৭ অক্টোবর শনিবার গেন্ডারিয়া রেললাইনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মসূচি চলাকালে একদল ব্যক্তি তাদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসে। এ সময় নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে আত্মরক্ষামূলক অবস্থান নেন তারা।বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন বলেন, গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও  এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে আসছেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এ সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত জুনে মাদক-সংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকাটি পরিদর্শন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করেন বলেও জানান।প্রতিমন্ত্রীর দাবি, মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং জনবলসংকট দূর করতে সংশ্লিষ্ট থানাকে আধাসরকারি পত্র দেওয়া হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়নাধীন। পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে নাগরিকদের অংশগ্রহণে সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি ওই এলাকায় যান।আরও পড়ুন: জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রীবিবৃতিতে ইশরাক হোসেন জানান, ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতি ও সহযোগিতায় সন্দেহভাজন মাদকের আস্তানাগুলোতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৪ থেকে ৫টি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।তার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদকদ্রব্য, বিদেশি মদ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ ও ছিনতাই করা মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় ছয়জনকে আটক করে জব্দ করা আলামতসহ গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘটনার কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও, ছবি ও খণ্ডিত শিরোনামের মাধ্যমে পুরো পরিস্থিতি তুলে ধরা হচ্ছে না। প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক কালবেলাসহ কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বিষয়ে তিনি আপত্তি জানান।তার অভিযোগ, এসব প্রতিবেদনে অভিযানের সময় মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি ৬ জনকে আটকের বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। এতে অভিযানের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট আড়ালে থেকে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে বিবৃতিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোর বক্তব্য তুলে ধরা হয়নি।গণমাধ্যমকে সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই এবং পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের শূন্য সহনশীলতার নীতি বাস্তবায়নে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করতে এ ধরনের অভিযান ও সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।এটিভি/এসটিও