• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ২০শে আশ্বিন ১৪৩৩ দুপুর ১২:৪৮:৩৪ (05-Oct-2026)
  • - ৩৩° সে:
সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।৫ অক্টোবর সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ প্রতিপাদ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব বসতি দিবসের তাৎপর্য শুধু একটি ঘর বা বাসস্থানকে ঘিরে নয়। টেকসই আবাসনের সঙ্গে নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন, গণপরিবহন ও সড়কব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের মতো বিষয়ও সরাসরি সম্পৃক্ত। সর্বোপরি মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজন নিরাপদ পরিবেশ।তিনি বলেন, সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করা উন্নত বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের। তবে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে। নাগরিকদের শুধু একটি বাসস্থান নয়, সেটিকে নিরাপদ ও টেকসই করাও এখন সময়ের দাবি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শহর, বন্দর ও নগর এলাকায় মানুষের বসতি ক্রমেই বাড়ছে। রাজধানী ঢাকা বর্তমানে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে রয়েছে। দেশের অন্যান্য বড় শহরেও প্রায় একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এমন বাস্তবতায় ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।শহরাঞ্চলে সব মানুষের জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।তারেক রহমান বলেন, সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত, নিরাপদ এবং মৌলিক সেবা-সুবিধাসম্পন্ন বাসস্থান নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।পরিকল্পিত, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তোলাকে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বাসযোগ্য, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থাও সরকারের পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন নিশ্চিত করা এবং সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করা সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার।তিনি বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে।এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ১১ নম্বর অভীষ্ট অর্জন সহজ হবে বলেও জানান তিনি।শহরাঞ্চলে জনসংখ্যার চাপ কমাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ শহরগুলোর সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শহরমুখী মানুষের চাপ কমানো সম্ভব হবে।তিনি বলেন, রাজধানী ও কয়েকটি বড় শহরকেন্দ্রিক উন্নয়নের পরিবর্তে দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারের লক্ষ্য কেন্দ্রীভূত নগরায়ণ নয়; বরং বিকেন্দ্রীভূত, ভারসাম্যপূর্ণ নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন।তারেক রহমান বলেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সারাদেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ঢাকার আশপাশে দ্বিতীয় পর্যায়ের নগর গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।বাসযোগ্য আবাসন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পরিবেশ সুরক্ষার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রকৃতি ও পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা শহরে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা হচ্ছে।বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নানা চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও নগর এলাকার সংকট মোকাবিলা এবং সর্বজনীন বাসস্থান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।আবাসন সংকট মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আবাসন খাতসংশ্লিষ্ট বেসরকারি উদ্যোক্তাসহ অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণ এ সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে ব্লকভিত্তিক আবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক পার্ক ও খেলার মাঠ স্থাপন এবং নির্ধারিত এলাকায় শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার পর্যায়ক্রমে গৃহীত সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে ‘সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান’ দেশের নাগরিকদের জন্য একটি বাস্তবতায় পরিণত হবে, ইনশাআল্লাহ।পরে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬-এর সব কার্যক্রমের সাফল্য কামনা করে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।সূত্র: জাগো নিউজ