• ঢাকা
  • |
  • বুধবার ২০শে কার্তিক ১৪৩৩ দুপুর ০২:১৮:২৫ (04-Nov-2026)
  • - ৩৩° সে:
‘সীমান্ত নিরাপত্তায় প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই’

‘সীমান্ত নিরাপত্তায় প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই’

ডেস্ক রিপোর্ট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করে বলেছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই।৪ নভেম্বর বুধবার রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও-এর মেঘনা হলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন ও বর্ডার গভর্নেন্স সংক্রান্ত কৌশলগত রূপরেখা (২০২৭-২০৩১)’ শীর্ষক ব্রিফিং-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আধুনিক, সমন্বিত ও প্রযুক্তিভিত্তিক নিরাপদ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত করতে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সংযুক্ত। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক যাতায়াত ও বাণিজ্য সহজতর করার পাশাপাশি সীমান্ত অতিক্রমকারী ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।তিনি আরও বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈধ ভ্রমণ ও বাণিজ্যকে গতিশীল করতে হবে। এ জন্য ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার, কাগজবিহীন প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সরকারি সেবাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও নীতির সমন্বয়ে বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টগুলোর কার্যক্রমগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে মানবাধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে।মানবপাচার, অবৈধ অভিবাসন ও আন্তসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কোনো একক সংস্থার দায়িত্ব নয়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।অনুষ্ঠানে আইওএমের প্রস্তাবিত ২০২৭-২০৩১ মেয়াদের কৌশলগত রূপরেখাকে স্বাগত জানান তিনি। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তুলতে আইওএমের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোকে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহযোগিতা বাড়ানোর অনুরোধ করেন।ব্রিফিংয়ে আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম বন্ডে বলেন, অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। পরিবর্তিত ভ্রমণ পরিস্থিতি ও কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় কার্যকর ব্যবস্থা, দক্ষ জনবল এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও ভালো সমন্বয় প্রয়োজন। সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে কারিগরি দক্ষতা ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে সহযোগিতা করতে আইওএম আগ্রহী।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান এবং উপপুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন।এ ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোসহ বিভিন্ন অংশীদার সংস্থার প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।আলোচনায় বৈধ যাতায়াত ও বাণিজ্য সহজ করার পাশাপাশি মানবপাচার, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ এবং পরিচয় জালিয়াতির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপায় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।আইওএমের প্রস্তাবিত কৌশলগত রূপরেখায় ৪টি সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো- সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল ব্যবস্থা ও তথ্য আদান-প্রদান, প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নির্বাচিত সীমান্ত পয়েন্টে অবকাঠামো ও সেবার উন্নয়ন। এ কাঠামো বা রূপরেখা প্রণয়নে সরকারের ৫ বছর মেয়াদি কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন রূপরেখাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।এটিভি/এসটিও