‘ব্রেভ বার্মা অ্যাক্ট’ পাস, মিয়ানমারের ওপর আরও কঠোর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারের ওপর আরও কঠোর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রতিনিধি পরিষদে বা হাউজ অব রিপ্রেজেনটিটিভে পাস হয়েছে ‘ব্রেভ বার্মা অ্যাক্ট’। সিনেটে বা উচ্চকক্ষে পাস হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সই করলে এটি আইনে পরিণত হবে। এর মাধ্যমে নেপিদোর ওপর আরও ৭ বছর নিষেধাজ্ঞা বাড়াবে ওয়াশিংটন।যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে মিয়ানমার ইস্যুতে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয় গত বছর। সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে জবাবদিহি জোরদার করতে গত ৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার হাউজ অব রিপ্রেজেনটিটিভ বা প্রতিনিধি পরিষদ বা নিম্নকক্ষে পাস হয়েছে ‘ব্রেভ বার্মা অ্যাক্ট’। ‘আসল জবাবদিহিতা’ নিশ্চিতে বিলটি আনা হয়েছে। বিলটি উত্থাপন করেন রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান বিল হুইজেঙ্গা।সর্বসম্মতভাবে পাস হওয়া এ বিল এখন সিনেটে। বিলটি গৃহীত হয়ে দু’বার সিনেটে পড়ে শোনানো হয়। এরপর এটিকে পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে সিনেটে এসে অনুমোদন পেলে তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে।মিয়ানমারের মিজিমা নিউজ বলছে, ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি সংগঠন বার্মা রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বিআরআই) বিল পাসকে স্বাগত জানিয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে বক্তব্য দিতে গিয়ে কংগ্রেসম্যান হুইজেঙ্গা মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর হাতে গির্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে হামলার প্রসঙ্গ তোলেন এবং ধর্মীয় নির্যাতন সংক্রান্ত বিআরআইয়ের একটি প্রতিবেদন উদ্ধৃত করেন।বিআরআইয়ের প্রেসিডেন্ট ও সিইও জো তুম হামুং বলেন, এটি দ্বিদলীয় সাফল্য এবং প্রবাসী সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফল। মিয়ানমারে খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর চলমান নিপীড়ন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও জোরালোভাবে তোলার প্রয়োজন ছিল।বিলের মূল লক্ষ্য হলো— মিয়ানমারের সামরিক সরকারের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সক্ষমতা সীমিত করা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা। এ আইনে ২০৩২ সালের ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বার্মাসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণ ও বিস্তারের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি ২০৩২ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর মার্কিন প্রেসিডেন্টকে নির্ধারণ করতে হবে— মিয়ানমার অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এন্টারপ্রাইজ (এমওজিই), মিয়ানমার ইকোনমিক ব্যাংক (এমইবি) এবং দেশটির জেট ফুয়েল খাতে জড়িত বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যমান মার্কিন আইন বা নির্বাহী আদেশের আওতায় নিষেধাজ্ঞার যোগ্য কি না। এ আইনে রাষ্ট্রদূত পদমর্যাদাসম্পন্ন একজন ‘স্পেশাল এনভয় ফর বার্মা’ নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যিনি নিষেধাজ্ঞা, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা ও মানবিক সহায়তাসহ যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক নীতিগত সমন্বয় করবেন।বিশ্লেষকদের মতে, বিলটি প্রতীকী নয় বরং অর্থনৈতিক চাপে জান্তার ওপর বাস্তব প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি খাত ও রাষ্ট্রীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়ানো হলে সামরিক সরকারের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস সংকুচিত হতে পারে। একই সঙ্গে, জেট ফুয়েল সরবরাহে জড়িত বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা এবং বিমান হামলার সক্ষমতা কমাতে চাপ তৈরি করতে পারে— যা চলমান সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে, নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলো কতটা সহযোগিতা করবে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা এড়াতে বিকল্প বাণিজ্যপথ ও আর্থিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেছে সামরিক জান্তা।বিলটি এখন সিনেটের বিবেচনায় অপেক্ষমাণ। সেখানে অনুমোদন পেলে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের মাধ্যমে এটি আইনে পরিণত হবে। ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণী মহলে এ বার্তা স্পষ্ট, মিয়ানমার ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নরম হচ্ছে না বরং দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়ে চাপ বাড়ানোর দিকেই যাচ্ছে।