নেই ফুলের জোগান, নেই ক্রেতা: বৈশাখের আগে ম্লান শাহবাগ
এম. ইরফান উদ্দিন ইরো : বাঙালির চিরকালীন উৎসব পহেলা বৈশাখ আর রঙিন ফুলের সমারোহ যেন একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু এবারের পহেলা বৈশাখ ঘিরে রাজধানীর বৃহত্তম ফুলের বাজার শাহবাগে দেখা দিয়েছে এক নজিরবিহীন মন্দা।আকস্মিক শিলাবৃষ্টি, তীব্র দাবদাহ আর সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় উৎসবের আগের দিনও স্থবির হয়ে আছে শাহবাগের ফুলের বাজার। পর্যাপ্ত জোগান না থাকা এবং ক্রেতা সংকটে আগামীকালকের বড় উৎসব নিয়ে এবার ভালো কোনো প্রস্তুতিই নিতে পারেননি ব্যবসায়ীরা।১৩ এপ্রিল সোমবার শাহবাগের বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা গেছে, অন্যান্য বছরের তুলনায় ফুল সংগ্রহের পরিমাণ অন্তত ৬০-৭০ শতাংশ কম। দোকানগুলোতে নেই চিরচেনা সেই উৎসবের তোড়জোড়। অনেক দোকানি অলস সময় পার করছেন, কারও চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে দুশ্চিন্তার ছাপ।প্রকৃতির রুদ্ররূপ ও জোগানে টান ফুল ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, গত কয়েকদিনের আকস্মিক শিলাবৃষ্টি এবং গত সপ্তাহের তীব্র গরমে যশোর, ঝিনাইদহ ও গদখালীর ফুল বাগানগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে গোলাপ, রজনীগন্ধা ও গাঁদা ফুলের পাঁপড়ি ঝরে যাওয়ায় এবং রোদে পুড়ে যাওয়ায় বাজারে ভালো মানের ফুলের আকাল দেখা দিয়েছে।শাহবাগের এক বিক্রেতা বলেন, "বাগানে ফুল নেই, যা আছে তার মানও ভালো না। চড়া দাম দিয়েও আমরা ভালো কালেকশন আনতে পারিনি। বৈশাখের আগে এমন ফুলশূন্য বাজার গত বছরও দেখিনি।"বাজার মন্দার পেছনে শুধু প্রকৃতি নয়, মানুষের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থাকেও দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে উৎসবের কেনাকাটায় ফুল এখন অনেকের কাছেই তালিকার তলানিতে।বাজারে আসা একজন ক্রেতা বলেন, "এক ছোট ঝুড়ি ফুলের মালা বা তোড়া কিনতে যা দাম চাওয়া হচ্ছে, তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। উৎসবের আমেজ থাকলেও পকেটের টানে শেষ পর্যন্ত ফুল না কিনেই ফিরতে হচ্ছে।"ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যমতে, অন্যান্য বছর বৈশাখের আগের রাতে যে গোলাপ ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হতো, এবার জোগান কম থাকায় তার পাইকারি দরই চড়া। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা না থাকায় খুচরা বাজারে সেই দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অধিকাংশ ব্যবসায়ী বড় কোনো অর্ডার নিতে সাহস পাচ্ছেন না। নেই বৈশাখী মালা গাঁথার চিরচেনা সেই ব্যস্ততা।শাহবাগের আরেক ফুল ব্যবসায়ী জানান, জলবায়ু পরিবর্তন সরাসরি ফুল চাষীদের ওপর প্রভাব ফেলেছে। যদি কাল সকালে ক্রেতার আনাগোনা কিছুটা বাড়ে, তবেই হয়তো ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।"শহরজুড়ে বৈশাখী সাজের আমেজ থাকলেও শাহবাগের এই নিস্তব্ধতা বলে দিচ্ছে, প্রকৃতির মেজাজ আর পকেটের টান এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে এবারের পহেলা বৈশাখ ফুল ব্যবসায়ীদের জন্য কোনো আনন্দ বার্তা বয়ে আনেনি। তবে তারা আশা করছেন শীঘ্রীই সুদিন ফিরবে তাদের ব্যবসায়।