‘ফাদার অব অল বোমস’ উন্মোচনের ঘোষণা দিল ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ‘ফাদার অব অল বোমস’ নামে নতুন একটি অস্ত্র উন্মোচনের প্রস্তুতি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে গত বছরের জুনে ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর দেশটির ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দেড় গুণ বেড়েছে বলে দাবি করেছেন আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি।২১ অক্টোবর বুধবার মোহেব্বির বক্তব্য উদ্ধৃত করে ইরানের সংবাদমাধ্যম ইয়াং জার্নালিস্টস ক্লাব এ তথ্য জানায়। তবে নতুন অস্ত্রটির ধরন, সক্ষমতা কিংবা উন্মোচনের নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।মোহেব্বি বলেন, আমরা ‘ফাদার অব অল বোমস’ উন্মোচনের প্রস্তুতি পর্যায়ে রয়েছি। এটি শত্রুর জন্য নতুন কিছু।এর আগে শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ক্ষেত্রে ‘ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট’ বোমা ব্যবহারের ইঙ্গিত দেন। বোমাটি ‘মাদার অব অল বোমস’ নামে পরিচিত। প্রায় ৯ হাজার ৮০০ কেজি ওজনের এই প্রচলিত বিস্ফোরক বোমাটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ অ-পারমাণবিক বোমা। ২০১৭ সালের এপ্রিলে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের একটি সুড়ঙ্গ এলাকায় হামলায় প্রথমবারের মতো এটি ব্যবহার করা হয়।মোহেব্বির দাবি, ২০২৫ সালের জুনে ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দেড় গুণ বেড়েছে। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্রের গুণগত মান, পাল্লা, ধ্বংসক্ষমতা ও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার নির্ভুলতাও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো পরিসংখ্যান দেননি আইআরজিসির এই মুখপাত্র।তিনি বলেন, ইরান তার প্রতিরক্ষা নীতিতে পরিবর্তন আনছে। দেশটি এখন স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।মোহেব্বি বলেন, আগে ইরানের প্রতিরক্ষা নীতি ছিল পুরোপুরি আত্মরক্ষামূলক। আমরা বলতাম, কোনো দেশ আমাদের আক্রমণ করলে আমরা জবাব দেব। আর এখন আমরা বলছি, কোনো দেশ আমাদের আক্রমণ করলে শুধু জবাবই দেব না, পালটা আক্রমণও চালাব। তিনি বলেন, আমরা শত্রুকে এমনভাবে আক্রমণ করব, যাতে তারা আমাদের জবাবের তীব্রতা অনুভব করতে পারে।তেহরানের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না বলে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে জানিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আসিম মুনিরের বৈঠকের পর দেশটির গণমাধ্যমে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।ইরানের সংবাদমাধ্যম নূর নিউজের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান। এর আগে দেশটির প্রচেষ্টায় জুনে একটি অন্তর্বর্তী শান্তি সমঝোতা হয়েছিল। তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে আবার সংঘাত শুরু হলে ‘ইসলামাবাদ মেমোরেন্ডাম’ নামে পরিচিত সমঝোতাটি ভেস্তে যায়।আসিম মুনির ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের সঙ্গেও বৈঠক করেন। ইরানের গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরানের সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটন ইরানের আস্থা ফিরে পাবে না বলে জানান গালিবাফ।শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের বন্দরগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নেওয়া, দেশটির তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সব আঞ্চলিক ফ্রন্টে শত্রুতা বন্ধ করা।এটিভি/এসআইআর