দুর্গাপূজায় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নয়: ডিসি ফরিদা
ডেস্ক রিপোর্ট: শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক ও ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। পূজামণ্ডপে বিশৃঙ্খলা, উসকানি, মাদক, ইভটিজিং, নারী ও শিশু হয়রানি এবং দুষ্কৃতকারীদের তৎপরতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।৭ অক্টোবর বুধবার সাভার উপজেলা পরিষদ হলরুমে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে সাভারের পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ডিসি ফরিদা খানম বলেন, প্রতিমা নির্মাণ থেকে শুরু করে পূজা উদযাপন ও বিসর্জন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপে বিশেষ নজরদারি, পুলিশ-আনসার ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত দায়িত্ব পালন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে।গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে আইপি ক্যামেরা স্থাপন, ভিডিও ধারণ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন তিনি। প্রয়োজন অনুযায়ী রিচার্জেবল আইপি ক্যামেরা স্থাপন করে সেগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে সংযুক্ত করার কথাও বলেন।স্বেচ্ছাসেবকদের পরিচয়পত্র ও বাহুবন্ধনী নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত নারী স্বেচ্ছাসেবক রাখার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ফরিদা খানম বলেন, কোনো তথ্য যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা যাবে না। গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে এর উৎস শনাক্ত করে ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা প্রতিরোধ করতে হবে।ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের উদ্দেশ্যে কেউ অপতৎপরতা চালালে দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন তিনি।জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—এই চেতনাকে ধারণ করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। আজান ও নামাজের সময় পূজামণ্ডপে মাইক ও বাদ্যযন্ত্রের শব্দ নিয়ন্ত্রণ এবং অন্য ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।প্রতিটি পূজামণ্ডপে কমপক্ষে ৫ কেজি ধারণক্ষমতার অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, চার্জার লাইট ও প্রয়োজন অনুযায়ী জেনারেটর রাখার নির্দেশ দেন ডিসি। বৈদ্যুতিক সংযোগে কোনো ত্রুটি রাখা যাবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।পূজা শুরুর আগেই ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের মাধ্যমে মণ্ডপগুলোর বৈদ্যুতিক ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রতিমা বিসর্জনের জন্য নির্ধারিত স্থান ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, বিসর্জনস্থলে ফায়ার সার্ভিস, নৌপুলিশ ও ডুবুরি দল প্রস্তুত রাখতে হবে। আলোকসজ্জা, পরিচ্ছন্নতা, যানবাহন চলাচল ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিসর্জন শেষ করতে হবে।পূজামণ্ডপ ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং পূজা শেষে দ্রুত বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। মণ্ডপ ঘিরে কোনো ধরনের মেলা, মাদক, জুয়া কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।ডিসি ফরিদা বলেন, পূজার নিরাপত্তা প্রস্তুতি শুধু পূজার দিন থেকে নয়, মহালয়া থেকেই শুরু করতে হবে। আগামী ১০ অক্টোবর সকাল ৫টা থেকে মহালয়া উপলক্ষে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিমা বিসর্জনের পর পূজামণ্ডপ, মন্দির বা আশপাশে কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন না করার বিষয়েও নির্দেশনা দেন তিনি।সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়ে ডিসি বলেন, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম বা অনুপ্রবেশের কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না। কোনো ঘটনা ঘটার পর নয়, সম্ভাব্য ঝুঁকি দেখা দিলেই প্রশাসনকে জানাতে পূজা উদযাপন কমিটিগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।ফরিদা খানম বলেন, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসবের নিরাপত্তা নয়; এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সামাজিক দায়িত্বশীলতারও পরীক্ষা। ঢাকা জেলা প্রশাসন পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে।সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন (বাবু)। সভায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাবের মো. সোয়াইব, সাভারের ইউএনও মো. সাইফুল ইসলাম, সাভার ও আশুলিয়া থানার ওসিসহ পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।সভায় জানানো হয়, এবার সাভার উপজেলায় ২৩৮টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সাভার পৌরসভায় ৪৫টি, শিমুলিয়ায় ৪০টি, ধামসোনায় ১৩টি, আশুলিয়ায় ১১টি, ইয়ারপুরে ১০টি, পাথালিয়ায় ৩০টি, বিরুলিয়ায় ১৪টি, সাভার ইউনিয়নে ৩টি, বনগাঁওয়ে ১২টি, তেতুলঝোড়ায় ২৬টি, কাউন্দিয়ায় ১২টি এবং ভাকুর্তায় ২২টি মণ্ডপ রয়েছে।