• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ২৭শে আষাঢ় ১৪৩৩ সকাল ১১:৫৯:৫৭ (11-Jul-2026)
  • - ৩৩° সে:
ক্রিপ্টোকারেন্সিতে কেনাকাটা নিয়ে মুফতি তাকি উসমানির ফতোয়া

ক্রিপ্টোকারেন্সিতে কেনাকাটা নিয়ে মুফতি তাকি উসমানির ফতোয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভার্চুয়াল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে পণ্য বা সেবা কেনাবেচা ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী বৈধ নয় বলে মত দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ও দারুল উলুম করাচির প্রেসিডেন্ট মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি।পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দি নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ ফতোয়া দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফতোয়াটির সত্যতা পরে তার ছেলে হাসান উসমানি নিশ্চিত করেছেন।ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ক্রিপ্টোকারেন্সি ইসলামি শরিয়াহর দৃষ্টিতে ‘মাল’ (সম্পদ) হিসেবে বিবেচিত হওয়ার প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করে না। এতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী ক্রিপ্টোকারেন্সি কোনো বাস্তব বা শরিয়াহ-স্বীকৃত সম্পদ নয়; বরং এটি ডিজিটাল অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত কিছু সংখ্যাগত তথ্যের সমষ্টি।এ কারণে বিটকয়েন, ইউএসডিটি, স্টেবলকয়েন বা অন্য যেকোনো ধরনের ক্রিপ্টো টোকেন ব্যবহার করে পণ্য কেনাবেচা কিংবা আর্থিক লেনদেন শরিয়াহসম্মত নয় বলে ফতোয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে। ভার্চুয়াল কারেন্সি, ক্রিপ্টো টোকেন বা স্টেবলকয়েন—যে নামেই বাজারজাত করা হোক না কেন, সব ক্ষেত্রেই একই বিধান প্রযোজ্য হবে বলে এতে বলা হয়।ফতোয়াটি দেওয়া হয় এক ব্যক্তির প্রশ্নের জবাবে। তিনি জানতে চান, ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে দুটি বই কেনা ধর্মীয়ভাবে বৈধ কি না। পাশাপাশি মূল মালিকের অনুমতি ছাড়া অনুলিপি করা একটি অনলাইন কোর্স ক্রিপ্টোকারেন্সি দিয়ে কেনার বিষয়ে শরিয়াহর দৃষ্টিভঙ্গিও জানতে চান।জবাবে বলা হয়, যেহেতু ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেন শরিয়াহসম্মত নয়, তাই ওই ব্যক্তির উচিত বই দুটি বিক্রেতার কাছে ফেরত দেওয়া। একই সঙ্গে অনুমতি ছাড়া নকল করা কোর্স কেনাও ইসলামি নীতিমালার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়।ফতোয়া প্রদানকারী আলেমদের মতে, ইসলামি ফিকহে বৈধ সম্পদ ও মালিকানার যে শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে, ক্রিপ্টোকারেন্সি তা পূরণ করতে পারে না। ফলে শরিয়াহর দৃষ্টিতে এ ধরনের ডিজিটাল সম্পদের কেনাবেচা ও লেনদেন বৈধ নয়।তবে উল্লেখ্য, ক্রিপ্টোকারেন্সির শরিয়াহগত বৈধতা নিয়ে বিশ্বের ইসলামি আইনবিদদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। কিছু আলেম নির্দিষ্ট শর্তে এর ব্যবহারকে অনুমোদনযোগ্য মনে করলেও, মুফতি তাকি উসমানির সর্বশেষ এই ফতোয়া বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।