পর্যটক মৃত্যুর পর কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং কার্যক্রম বন্ধ
ডেস্ক রিপোর্ট: কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং দুর্ঘটনায় এক পর্যটকের মৃত্যুর পর সমুদ্রসৈকতের সব পয়েন্টে প্যারাসেইলিং কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। তদন্ত শেষ হওয়া এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।২ আগস্ট রোববার দুর্ঘটনার পর প্রশাসন সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় দরিয়ানগর এলাকার একটি প্যারাসেইলিং পয়েন্টে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কার্যক্রম চালানোর অভিযোগে ‘ফ্রাই এয়ার সি স্পোর্টস’-এর স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং প্যারাসেইলিংয়ের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম জানান, অভিযানে পাঁচ থেকে ছয়টি স্পিডবোটের ইঞ্জিন, বিভিন্ন অ্যাসেম্বল ও ডিসঅ্যাসেম্বল করা যন্ত্রাংশ, ছয় থেকে সাতটি জেরিক্যানে সংরক্ষিত জ্বালানি এবং বিভিন্ন স্পেয়ার পার্টস জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা আলামত জেলা প্রশাসনের তথ্য ও বিজ্ঞাপন কেন্দ্রে সংরক্ষণ করা হয়েছে।এদিকে দরিয়ানগরে প্যারাসেইলিং দুর্ঘটনায় নিহত পর্যটক শৌভিক রায়ের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, নিহতের বোন মেধা মৃত্তিকা রায় বাদী হয়ে রোববার সন্ধ্যায় মামলাটি দায়ের করেন।মামলায় ‘ফ্রাই এয়ার সি স্পোর্টস’-এর পরিচালক মো. ফরিদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত করবে ট্যুরিস্ট পুলিশ।উল্লেখ্য, বৈরী আবহাওয়ায় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্যারাসেইলিং পরিচালনার সময় গত ১ আগস্ট শনিবার সাগরে পড়ে খুলনার পর্যটক শৌভিক রায়ের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যারাসেইলিং পরিচালনার ক্ষেত্রে পর্যটকের ওজন, বাতাসের গতি, আবহাওয়া এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ না করলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যায়।সূত্র: কালের কণ্ঠ