• ঢাকা
  • |
  • মঙ্গলবার ১৯শে কার্তিক ১৪৩৩ বিকাল ০৫:৪০:১৩ (03-Nov-2026)
  • - ৩৩° সে:
পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, মাঠে যুবদল-ছাত্রদল

পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, মাঠে যুবদল-ছাত্রদল

অনলাইন ডেস্ক: তৃতীয় দিনের মতো রাজধানীর মিরপুরে পোশকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার সকালে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশন এলাকায় এই সংঘর্ষ হয়।মিরপুর-৭ নম্বর সেকশন এলাকার একটি পোশাক কারখানার নিরাপত্তাকর্মী বলেন, ‘সকালে কারখানা খুলেছিল, শ্রমিকেরাও কাজে এসেছিলেন। সকাল ৮টার পরে একদল লোক এসে কারখানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা শ্রমিকদের বাইরে বের করে দিতে বলেন এবং এক পর্যায়ে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্রমিকদের বের করে দেওয়া হয়।’প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর-১১ ও ১২ নম্বরের মধ্যবর্তী অংশে পোশাকশ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আধা ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সংঘর্ষ চলে। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এরপর অনেক কারখানা বন্ধ করে দেয় মালিকপক্ষ।এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ছত্রভঙ্গ হওয়ার পর কিছু মানুষ অলিগলিতে অবস্থান নিয়েছেন। এসময় সড়কে অনেকের স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখা যায়।মিরপুর-৭ নম্বরে কয়েকটি কারখানার গেটে অবস্থান নিতে দেখা যায় শ্রমিকদের। কয়েকজন নারী শ্রমিক বলেন, আমরা বেতন বাড়ানো দাবিতে আন্দোলন করছি, এটা যেমন সত্যি, বহিরাগতরা এসে ভাঙচুর করছে সেটাও সত্যি।তারা আরও বলেন, কে শ্রমিক আর কে বহিরাগত তা তো বোঝা যায় না! সে জন্য তো আমাদের ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন বন্ধ রাখতে পারি না। আমরা ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা চাই। পুলিশের কাজ বহিরাগতদের খুঁজে বের করা। কিন্তু তারা নিরীহ শ্রমিকদের মারধর-গ্রেফতার করছে।এ সময় মিরপুর-১১ নম্বরে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অবস্থান নিতে দেখা যায়।পল্লবী থানা যুবদলের আহ্বান নূর সালাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পোশাকশ্রমিকেরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করছেন, এটা তাদের অধিকার। এ নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এই আন্দোলনে ঢুকে যুবলীগ-আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ভাঙচুর চালাচ্ছে, নাশকতা করছে।’তিনি বলেন, ‘এই নাশকতা ঠেকাতে আমরা মাঠে নেমেছি। গতকালও আমরা তিনজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি।’আন্দোলনের ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (পিওএম-দক্ষিণ বিভাগ) মো. তৌহিদুল আরিফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে কিছু দুষ্কৃতিকারী সকালে রাস্তা অবরোধ করার চেষ্টা করেছিল, রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়েছিল। আমরা কঠোর হাতে দমন করেছি।তিনি বলেন, আমরা আরও কঠোর হচ্ছি, কারণ এখন যারা আছেন তারা কোনো অর্থেই গার্মেন্টসকর্মী বা শ্রমিক না। এখন যারা মাঠে আছে, তারা কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে আছে—দুষ্কৃতিকারী। সে কারণে আমরা কঠোর হাতে দমন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এখন সব কিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে।ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় কতজন আহত হয়েছেন, তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।কতজনকে আটক করা হয়েছে জানতে চাইলে আরিফ বলেন, ‘এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। এখন সড়ক স্বাভাবিক। আমরা অলিগলি ঘুরছি। অলিগলিতে যদি কেউ থাকে, আমরা আইনের আওতায় আনবো।’একজন পুলিশ সদস্যকে সকালে মারধর করা হয়, এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘সেটার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’দুষ্কৃতিকারী কারা জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার বলেন, ‘কারা আছে তা তদন্ত করে পরবর্তীতে বলা যাবে। আমার মনে হয়, প্রকৃত শ্রমিকরা মাঠে নেই। ছুটি হওয়ার পর যার যার মতো বাড়ি চলে গেছে বা কারখানায় কাজ করছে। এখন যারা আছে, তারা কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে আছে।’এদিন দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে মিরপুর-১১ নম্বরে মেট্রো স্টেশন খুলে দেওয়া হয়।এটিভি/এসটিও