শ্রীপুরে তুচ্ছ ঘটনায় পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল
গাজীপুরের (শ্রীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় মাত্র ১২০০ টাকা মূল্যের কাঁঠাল গাছ বিক্রির টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে আপন চাচা, ফুফা ও চাচাতো ভাইকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে।শুক্রবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের শৈলাট বাজারে প্রকাশ্য এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সালাম মন্ডল ও আব্দুল আউয়াল মন্ডল দুই ভাইয়ের যৌথ মালিকানাধীন একটি জমি স্থানীয় একটি গ্লাস ফ্যাক্টরির কাছে বিক্রি করা হয়। ওই জমিতে থাকা ৪টি কাঁঠাল গাছ দুই ভাইয়ের যৌথভাবে বিক্রি করার কথা থাকলেও বড় ভাই আব্দুল আউয়াল মন্ডলের ছেলে রুবেল মন্ডল কাউকে না জানিয়ে একা গাছগুলো বিক্রি করে দেন।শুক্রবার রাতে শৈলাট বাজারে সালাম মন্ডল ও তার ছেলে রাজিব মন্ডল গাছ বিক্রির টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল আউয়াল মন্ডল ও তার দুই ছেলে রবিন ও রুবেল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গাজীপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রবিন মন্ডল ও তার ভাই রুবেল মন্ডল আগে থেকে প্রস্তুত রাখা এসএস পাইপ ও লোহার রড নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রবিন ও রুবেল সরাসরি পাইপ দিয়ে তাদের চাচা ও চাচাতো ভাইকে আঘাত করছেন। এ সময় ঠেকাতে এলে ফুফা ইমান মন্ডলকেও বেধড়ক পেটানো হয়, এতে তার হাত ভেঙে যায়।এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৪ জন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেনসালাম মন্ডল (চাচা), রাজিব মন্ডল (চাচাতো ভাই), ইমান মন্ডল (ফুফা), আব্দুল আউয়াল মন্ডল (রবিনের বাবা)। আহতদের উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে সালাম মন্ডল ও আব্দুল আউয়াল মন্ডলের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।ভুক্তভোগী রাজিব মন্ডল বলেন, "আমরা শুধু গাছ বিক্রির কথা জিজ্ঞেস করেছি। রবিন ও রুবেল ক্ষমতা খাটিয়ে আমাদের ওপর হামলা করেছে। তারা আগে থেকেই পাইপ রেডি করে রেখেছিল। আমরা এই অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার চাই।"অন্যদিকে, অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা রবিন মন্ডল হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমার বাবার ওপর আগে চাচা ও চাচাতো ভাই হামলা চালায়। আমি শুধু ঠেকাতে গিয়েছিলাম। এই ঘটনায় আমি নিজেই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।"বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে এমন সহিংসতায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক পদ-পদবি ব্যবহার করে পারিবারিক তুচ্ছ ঘটনায় এমন তান্ডব কাম্য নয়। তারা দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।