• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ৩০শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বিকাল ০৫:৩৫:৪৪ (13-Jun-2026)
  • - ৩৩° সে:
জাহাজ নির্মাণে স্বনির্ভরতা আনতে সরকার আন্তরিক: নৌবাহিনী প্রধান

জাহাজ নির্মাণে স্বনির্ভরতা আনতে সরকার আন্তরিক: নৌবাহিনী প্রধান

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বিদেশি নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশের ভেতরেই কাঁচামাল ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তিনি বলেছেন, দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে জাহাজ নির্মাণে আরও সক্ষম ও আত্মনির্ভর করে তুলতে সরকার আন্তরিক।৪ জুন বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার সোনাকান্দায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড (ডিইডব্লিউ) এ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত ৭০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন অত্যাধুনিক ফ্লোটিং ক্রেন ‘বিএনএফসি বলীয়ান’ নৌবাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।নৌবাহিনী প্রধান জানান, তুরস্ক, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের স্বনামধন্য শিপইয়ার্ড ইতোমধ্যে ডিইডব্লিউর সঙ্গে যৌথভাবে জাহাজ নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ ঘটানো সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে দেশের নিজস্ব শিপইয়ার্ডেই যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে সক্ষমতা অর্জনের আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।তিনি বলেন, বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে যৌথভাবে জাহাজ নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য জাহাজ নির্মাণ শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ দেশে উৎপাদনের বিকল্প নেই। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারকে অবহিত করা হয়েছে।এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, নৌবাহিনীর অপারেশনাল ও লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে এই ফ্লোটিং ক্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে জাহাজ মেরামত, উদ্ধার ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পে আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।ডিইডব্লিউ-এর অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, আধুনিক শিপবিল্ডিং শেড, ওয়ার্কশপ সম্প্রসারণ এবং প্রায় ১০ হাজার বর্গমিটার আউটফিটিং ওয়ার্ক এরিয়া উন্নয়নের ফলে প্রতিষ্ঠানটি একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এখানে প্রায় ৮০০ দক্ষ ও অর্ধদক্ষ জনবলের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।নৌবাহিনী প্রধান বলেন, মেড ইন বাংলাদেশ উদ্যোগের আওতায় দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই প্রকল্প একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। ডিইডব্লিউকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বনির্ভর শিপইয়ার্ডে রূপান্তরের লক্ষ্যে নতুন ভূমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন স্লিপওয়ে নির্মাণের মাধ্যমে বড় আকারের যুদ্ধজাহাজ নির্মাণও সম্ভব হবে।তিনি আরও জানান, সম্প্রতি প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ডিইডব্লিউ পরিদর্শন করেছেন এবং আধুনিক জাহাজ নির্মাণ ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।নৌবাহিনী সূত্রে জানা যায়, ডিইডব্লিউ নির্মিত ৪৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৫ মিটার প্রস্থের বিএনএফসি বলীয়ান ৭০ টন পর্যন্ত ভার উত্তোলনে সক্ষম। এটি নৌবাহিনীর জাহাজ মেরামত, উদ্ধার অভিযান, ভারী যন্ত্রপাতি স্থানান্তর, ডুবে যাওয়া নৌযান উদ্ধার এবং নৌঘাটির লোডিং-আনলোডিং কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।