• ঢাকা
  • |
  • মঙ্গলবার ৩১শে ভাদ্র ১৪৩৩ বিকাল ০৪:৪৩:৪১ (15-Sep-2026)
  • - ৩৩° সে:
৮ অক্টোবর থেকে ইলিশ ধরা-কেনাবেচায় নিষেধাজ্ঞা

৮ অক্টোবর থেকে ইলিশ ধরা-কেনাবেচায় নিষেধাজ্ঞা

অনলাইন ডেস্ক: মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন দেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময়ে ইলিশ পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত, কেনাবেচা ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ করেছে সরকার।১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ইলিশ সম্পদ উন্নয়নসংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সভায় সভাপতিত্ব করেন।নিষেধাজ্ঞার সময়ে মা ইলিশ সংরক্ষণে দেশব্যাপী অভিযান চালানো হবে। ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলেদের সরকার ভিজিএফের আওতায় খাদ্য সহায়তা দেবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়।সভায় মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে মা ইলিশ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। বরিশাল, চাঁদপুর ও ভোলাসহ ইলিশের প্রধান প্রজনন এলাকাগুলোতে নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করতে হবে।তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও মৎস্য বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজন হলে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত নৌযান ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া হবে।অবৈধভাবে ধরা ইলিশ যাতে বাজারজাত করা না যায়, সে জন্য বরফকল, আড়ত ও বাজারেও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেন মন্ত্রী। চাঁদপুর মোহনাসহ ইলিশের প্রজননক্ষেত্রগুলোতে অবৈধ জাল অপসারণে কঠোর অভিযান চালানোর কথাও বলেন তিনি।মন্ত্রী বলেন, কোনো অবস্থাতেই নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ ধরা বা বাজারজাত করার সুযোগ দেওয়া হবে না। মা ইলিশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে।সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ইলিশের উৎপাদন দিন দিন কমে যাওয়ার কারণ গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে। কোথায় দুর্বলতা বা কার্যক্রমে ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অবৈধ জাল বন্ধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নিষিদ্ধ জাল উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে জেলে প্রতিনিধিদেরও এসব জাল না কেনার বিষয়ে জেলেদের সচেতন করতে হবে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের দেওয়া সরকারি সহায়তা যেন প্রকৃত জেলেদের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে তদারকি বাড়ানোর কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।তিনি আরও বলেন, ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিদেশ থেকে মাছ আমদানি করতে হচ্ছে এটি উদ্বেগের বিষয়। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ইলিশকে জাতীয় সম্পদ ও জিআই পণ্য হিসেবে রক্ষা এবং উৎপাদন বাড়াতে আগামীতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে।সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. মীর হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলামসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিরা।এছাড়াও জেলা প্রশাসন, র‍্যাব, কোস্ট গার্ড, বিমানবাহিনী, নৌ পুলিশ, বিজিবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন।সূত্র: কালের কণ্ঠ