প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে আলীকদমের দুর্গম পাহাড়ে স্কুলঘর পুনর্নির্মাণ
অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে পার্বত্য জেলা বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম পাহাড়ে স্থানীয় প্রশাসন একটি স্কুলঘর পুনর্নির্মাণ করেছে।দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অতিভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছিল একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এতে দুর্গম এলাকার অর্ধশতাধিক শিশু শিক্ষার্থীর পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় একজন রাজনৈতিক কর্মী বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করেন। সঙ্গে-সঙ্গে নেওয়া হয় উদ্যোগ, স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। স্থানীয় প্রশাসন ১০ লাখ টাকার বেশি টাকা ব্যয়ে দ্রুততার সঙ্গে স্কুলঘরটি পুনর্নির্মাণ করেছে। এতে আবারও শিশু শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা শুরু হয়েছে, এলাকায় ফিরেছে কচিকাঁচার কোলাহল।উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বিধ্বস্ত হওয়ার আগে স্কুলটির নাম ছিল ‘সাকহ্লানপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।’ তখন স্কুলটিতে দু’টি পাড়ার শিশুরা পড়াশোনা করতো। উপজেলা প্রশাসন স্কুলঘরটি পুনর্নির্মাণের সময় পাশ্ববর্তী আরও দু’টি পাড়ার শিশুদের পড়ার সুযোগ দিতে স্কুলের স্থানটি সামান্য পরিবর্তন করে। এতে এখন স্কুলটিতে দুর্গম চারটি পাড়ার শিশু শিক্ষার্থী লেখাপড়া করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুনভাবে স্কুলটির নাম রাখা হয়েছে ‘বুজিখাল ম্রো প্রাথমিক বিদ্যালয়।’ স্থানীয় বাসিন্দাদের বেশিরভাগই ম্রো জনগোষ্ঠীর হওয়ায় স্কুলের নামকরণে তাদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগে থেকে ভর্তি থাকা ৬০ জন শিশু শিক্ষার্থীর সঙ্গে নতুন ১০-১৫ জনসহ গত ১ নভেম্বর থেকে স্কুলটিতে পাঠদান শুরু হয়েছে।গত ৩ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে নতুন স্কুলঘরটি উদ্বোধন ও পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ। এখন নিয়মিত পাঠদানে শিশু শিক্ষার্থীদের কোলাহলে মুখর হয়েছে এলাকাটি। স্কুলটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বসানো হয়েছে একটি সোলার প্যানেল। সেখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতেই স্কুলের চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে।প্রসঙ্গত, ২০২২ স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্বের উদ্যোগে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। সেখানে ৫০ থেকে ৬০ জন শিশু পড়াশোনা করত। গত ১২ থেকে ১৪ জুলাই প্রবল বৃষ্টিতে স্কুলঘর ও ছাত্রাবাসটি বিধ্বস্ত হলে বন্ধ হয়ে যায় পাঠদান। এতে বিপাকে পড়েন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। বিষয়টি নজরে আসে আলীকদম উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও শিক্ষক নুরুল ছাফা ভূঁইয়া বাবুর। তিনি বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহকে জানান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দ্রুত স্থানীয় প্রশাসনকে উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেয়।নুরুল ছাফা ভূঁইয়া বাবু বলেন, ‘স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় বিদ্যালয়টি পুনর্নির্মাণ সম্ভব হয়েছে। আমি চাই, বিদ্যালয়টিতে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত হোক এবং শিশুরা নির্বিঘ্নে পড়াশোনা করতে পারুক।’জানা গেছে, ১০ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে নতুন স্কুলঘর ও ছাত্রাবাস। উভয় ঘরে রয়েছে তিনটি করে কক্ষ। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহ স্কুলঘর উদ্বোধন শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ করেন।এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আশপাশর চার পাড়ার শিশুরা এখানে পড়াশোনার সুযোগ পাবে। বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখাও জরুরি। শিক্ষকদের বেতন-ভাতার বিষয়টি তিনি নজরে রাখবেন বলেও জানান। শিশুদের পড়াশোনা যাতে কোনো কারণে বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গর্ডেন ত্রিপুরা বলেন, ‘প্রবল বৃষ্টিতে বিদ্যালয়টি ভেঙে পড়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। দ্রুত পুনর্নির্মাণ করায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এ উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।’স্থানীয় পাড়াকারবারি দমলয় মুরুং বলেন, ‘এখানে চারটি পাড়ায় মানুষ বসবাস করেন। শিশুদের পড়াশোনার জন্য আশপাশে আর কোনো বিদ্যালয় নেই। পাহাড়ের শিশুদের ভবিষ্যতের একমাত্র আশার জায়গা এই বিদ্যালয়। বৃষ্টিতে স্কুলঘরটি ভেঙে যাওয়ায় আমরা খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। এখন আবার বিদ্যালয়টি নির্মিত হওয়ায় আমাদের সন্তানদের স্বপ্ন ফিরে এসেছে।’আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনজুর আলম বলেন, ‘বিদ্যালয়টি অতিবৃষ্টিতে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য ছিল।’ বাসসএটিভি/এসটিও