• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ১০ই আশ্বিন ১৪৩৩ রাত ০২:০৬:৪৮ (26-Sep-2026)
  • - ৩৩° সে:
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে বাড়ল ২০ টাকা

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে বাড়ল ২০ টাকা

ডেস্ক রিপোর্ট: আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় (ফ্রেইট চার্জ) উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার।২০ সেপ্টেম্বর রোববার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম ঘোষণা করা হয়। নতুন দাম রোববার রাত ১২টার পর অর্থাৎ ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।নতুন দামে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতদিন প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থ বিবেচনায় দেশে এতদিন দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল।জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এর আগে গত ১৮ এপ্রিল ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর প্রায় পাঁচ মাস দাম অপরিবর্তিত ছিল।মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বর্তমানে কলকাতায় প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৩৪ টাকা ৭৬ পয়সা। মিয়ানমারে এ দাম ১৬৪ টাকা ৮৩ পয়সা, নেপালে ১৬১ টাকা ২৪ পয়সা, শ্রীলঙ্কায় ১৭৯ টাকা ৪২ পয়সা, থাইল্যান্ডে ১৫১ টাকা ২২ পয়সা, ভিয়েতনামে ১৩৭ টাকা, মালদ্বীপে ১৪০ টাকা ৭১ পয়সা, ফিলিপাইনে ১৬৮ টাকা ৫৩ পয়সা, পাকিস্তানে ১৮৫ টাকা ৪৮ পয়সা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৪৪ টাকা ৭৯ পয়সা।মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশে জ্বালানি তেলের দাম তুলনামূলকভাবে কম থাকায় পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দামের সামঞ্জস্য রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে এলএনজি খাতেও সরকার বিপুল ভর্তুকি দিয়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ সচল রাখছে। পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি অব্যাহত রাখা এবং জ্বালানি তেল পাচার রোধে দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়েছে।বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী ডিজেলে বিপিসির লিটারপ্রতি লোকসান প্রায় ৮৯ টাকা। এতে প্রতিদিন প্রায় ১০৯ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।জ্বালানি বিভাগের হিসাবে, লিটারে ২০ টাকা দাম বাড়িয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য করা হলে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে।বিপিসির লোকসান কমানো, বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে জ্বালানি তেল পাচারের ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যেই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।সূত্র: জাগোনিউজ