• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ২৫শে আশ্বিন ১৪৩৩ সকাল ১১:৫১:০৭ (10-Oct-2026)
  • - ৩৩° সে:
তাজমিন হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন, মুঠোফোন উদ্ধার

তাজমিন হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন, মুঠোফোন উদ্ধার

ডেস্ক রিপোর্ট: কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে (১৩) গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক সিএনজিচালকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সুমন নামে ওই চালককে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত মুঠোফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।৯ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।পুলিশ সুপার জানান, হত্যার কারণ সম্পর্কে অনেকটাই ধারণা পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাজমিনের মুঠোফোনের কলতালিকা পর্যালোচনা করেও ঘটনার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল ধানখেতে ধস্তাধস্তির আলামত মিলেছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সুমন একাই তাজমিনকে ধানখেতে নিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন।পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ অক্টোবর বুধবার গভীর রাতে বাস থেকে নেমে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকার বাসায় ফেরার জন্য সুমনের অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে সর্বশেষ কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায়। এরপর শহরের দিকে না গিয়ে সুমন বিজরা, রসুলপুর ও শিকারীপাড়া হয়ে লালমাই উপজেলার জগতপুরের একটি ধানখেতের দিকে অটোরিকশা চালিয়ে নিয়ে যান।বিষয়টি বুঝতে পেরে তাজমিন চলন্ত অটোরিকশা থেকে রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার মুঠোফোনে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নিজের অবস্থানের তথ্য ও একটি বার্তা পাঠিয়ে উদ্ধারের আকুতি জানায়। তবে গভীর রাতে ঘুমিয়ে থাকায় তাঁর বাবা বার্তাটি দেখতে পাননি।পরে জগতপুরের ধানখেতে পৌঁছালে তাজমিন পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে রক্ষা পায়নি বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের পাশে একটি অটোরিকশাও পড়ে ছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করেন।এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।নিহত জান্নাতুল তাজমিন কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে আর স্কুলে উপস্থিত হয়নি।তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। পরিবার নিয়ে তিনি কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামে।এর আগে গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন।সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক