বিধ্বস্ত অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে সক্ষম ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দীন
নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে চাঁদপুর-২ আসনে ইতিহাস গড়ে জয়লাভ করেছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতনামা কারেন্সি টেকনোলজিস্ট ও ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।এই আসনের মোট ১৫৫টি ভোটকেন্দ্রের একটিতেও তিনি পরাজিত হননি; প্রতিটি কেন্দ্রেই তার পক্ষে সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার এই বিজয় রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক মহলেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, পেশাগত দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাও ভোটারদের আস্থা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।বিশ্লেষকদের মতে, একজন কারেন্সি প্রযুক্তি ও ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞের সংসদে প্রবেশ দেশের আর্থিক নীতিনির্ধারণে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করবে। বিএনপি সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের জন্য তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিনি মোট ১ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় জোট সমর্থিত এলডিপি প্রার্থী বিল্লাল হোসেন মিয়াজী ছাতা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৭৩৩ ভোট। ফলে ১ লাখ ১৫ হাজার ৮৫০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।৩৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে কারেন্সি প্রযুক্তি ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং খাতে কাজ করে আসছেন ড. জালাল উদ্দিন। ব্যাংকিং এবং অর্থনীতি নিয়ে তিনি দেশে বিদেশের খ্যাতনামা ব্যাংক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করেছেন। কাজ করেছেন বিভিন্ন দেশের সেন্ট্রাল ব্যাংকের সঙ্গেও। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি নিরাপত্তা মুদ্রণ ও জালিয়াতি প্রতিরোধ প্রযুক্তিভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি কারেন্সি টেকনোলজি, জাল নোট শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করে আসছেন। বিশ্বজুড়ে ক্যাশ, কারেন্সি ও ফোরজারি প্রিভেনশন বিষয়ক বিভিন্ন সেমিনার ও কনফারেন্সে অংশ নিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি গ্লোবাল ফাইন্যানশিয়াল ক্রাইম প্রিভেনশন গ্রুপের সক্রিয় সদস্য হিসেবেও পরিচিত।তার প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য “ব্যাংক নোট এন্ড সেন্ট্রাল ব্যাংক”, যেখানে আধুনিক ব্যাংক নোট প্রযুক্তি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা ও বৈশ্বিক মুদ্রানীতির বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। “টাকা চেনার সহজ উপায়” বইটি সাধারণ মানুষের মধ্যে জাল নোট শনাক্তকরণে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। এছড়াও ‘জাল টাকার বিরাম্বনা’ নামের তার একটি বই রয়েছে।ড. জালাল উদ্দিন সেন্ট্রাল ব্যাংকের সিনিয়র কনসালট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বাংলাদেশে স্পেনের সাবেক অনারারি কনসাল হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন-যা তার আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার পরিচায়ক।তিনি বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন- নিরাপদ ও সুরক্ষিত ব্যাংক নোট প্রিন্টিং ইঞ্জিনিয়ারিং, জালিয়াতি ও কাউন্টারফিটিং শনাক্তকরণ এবং প্রতিরোধ প্রযুক্তি, ব্যাংক নোট প্রিন্টিং প্ল্যান্ট স্থাপন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, ব্যাংক নোটের স্ট্রাকচারাল টেকনোলজি, সুরক্ষিত ব্যাংক নোট উৎপাদন ও ম্যানুফ্যাকচারিং।এছাড়া পাসপোর্ট, ভিসা, রেভিনিউ স্ট্যাম্প, এনআইডি, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা নথির অথেনটিকেশন ও জালিয়াতি প্রতিরোধ প্রযুক্তিতেও তার বিশেষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেফ ও দ্রুত ক্যাশ সার্কুলেশন, ক্যাশ ডিসইন্টিগ্রেশন ও ডেস্ট্রাকশন প্রসেস, কয়েন মিন্টিং টেকনোলজি, ব্র্যান্ড প্রোটেকশন, রেভিনিউ জেনারেটিং টেকনোলজি এবং কমপ্লায়েন্স ও ডিউ ডিলিজেন্স বিষয়েও তিনি কাজ করেছেন।অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে তারল্য সংকট, খেলাপি ঋণ, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ ও মুদ্রাস্ফীতির মতো বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কারেন্সি প্রযুক্তি, মুদ্রানীতি ও ব্যাংকিং অবকাঠামো বিষয়ে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন বিশেষজ্ঞের উপস্থিতি বিএনপি সরকারের নীতিনির্ধারণে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতে পারে।আলোচনা রয়েছে, তারেক রহমানের সরকার চাইলে তাকে অর্থনীতি, ব্যাংকিং সংস্কার বা মুদ্রানীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনতে পারে। তার প্রযুক্তিনির্ভর ও নিরাপত্তাকেন্দ্রিক অভিজ্ঞতা দেশের মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, ব্যাংকিং অবকাঠামো আধুনিকায়ন এবং আর্থিক সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।