• ঢাকা
  • |
  • শুক্রবার ২৭শে ভাদ্র ১৪৩৩ সকাল ০৯:০৬:০১ (11-Sep-2026)
  • - ৩৩° সে:
কর ফাঁকিবাজদের চিহ্নিত করতে তৈরি হবে ডিজিটাল প্রোফাইল

কর ফাঁকিবাজদের চিহ্নিত করতে তৈরি হবে ডিজিটাল প্রোফাইল

অনলাইন ডেস্ক: কর ফাঁকি রোধ এবং রাজস্ব আদায় বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও উপাত্তনির্ভর প্রযুক্তির সাহায্যে করদাতাদের ঘোষিত আয়ের সঙ্গে বাস্তব ব্যয়ের সামঞ্জস্য যাচাইয়ের লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন এই ব্যবস্থায় প্রতিটি করদাতার একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করা হবে। সেখানে রিটার্নে প্রদর্শিত আয়ের পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, বিদেশ ভ্রমণ, ব্যাংক লেনদেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়ের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হবে। কোনো করদাতার আয় ও ব্যয়ের মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি বা গরমিল দেখা দিলে প্রযুক্তি তা নিজে থেকেই ধরে ফেলবে। এতে ফাঁকিবাজদের সহজে চিহ্নিত করে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রাখা সম্ভব হবে। কর ফাঁকি রোধ ও করজাল সম্প্রসারণে করদাতার আর্থিক কর্মকান্ডের বিভিন্ন উৎসের তথ্য এক জায়গায় এনে বিশ্লেষণের উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআরের কর বিভাগ। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে ইনকাম ট্যাক্স ডেটা ওয়্যারহাউস স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে এ মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে কর-জিডিপির অনুপাত ৬.৮ শতাংশ। ২০৩৫ সালের মধ্যে এটি ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় করদাতার ব্যাংক হিসাব, জমি ও গাড়ি কেনাবেচা এবং শেয়ারবাজারের বিনিয়োগের তথ্য অটোমেটেড সিস্টেমে চলে আসবে। উদাহরণ হিসেবে এনবিআর জানায়, কোনো করদাতা বছরে ১০ লাখ টাকা আয় দেখালে এবং একই সময়ে ব্যাংকে কোটি টাকা জমা বা দামি গাড়ি ক্রয় করলে এআই তা সঙ্গে সঙ্গে চিহ্নিত করবে।ট্যাক্স আইডেনটিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) না থাকলেও করযোগ্য অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে যুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হবে। একইভাবে টিআইএন থাকার পরও যারা রিটার্ন দাখিল করেন না, তাদেরও স্বয়ংক্রিয়ভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এ জন্য টিআইএন ডেটাবেস পরিশোধন করে করদাতাদের কার্যক্রম অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। নিয়মিত রিটার্ন দাখিল ও কর প্রদানকারীদের ‘অ্যাকটিভ ট্যাক্সপেয়ার’, রিটার্ন দাখিল করলেও করযোগ্য আয় না থাকা ব্যক্তিদের ‘রিটার্ন ফাইলার বাট নো ট্যাক্স’, টিআইএন থাকার পরও রিটার্ন না দেওয়া ব্যক্তিদের ‘নন-ফাইলার’ এবং দীর্ঘদিন কোনো কার্যক্রম নেই এমন টিআইএনকে ‘ডরম্যান্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। অন্যদিকে টিআইএন না থাকলেও করযোগ্য অর্থনৈতিক কর্মকান্ড রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ‘পটেনশিয়াল ট্যাক্সপেয়ার’ হিসেবে শনাক্ত করা হবে। প্রতিটি করদাতার জন্য একটি সমন্বিত করদাতা প্রোফাইল তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে ঘোষিত আয়, পরিশোধ করা কর, ব্যাংক লেনদেন, স্থাবর সম্পত্তি, গাড়ি, কোম্পানিতে মালিকানা, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, আমদানি-রপ্তানি, উৎসে কর, বিদেশ ভ্রমণ এবং অন্যান্য বড় ব্যয় ও সম্পদের তথ্য একত্রে রাখা হবে। এর ফলে একজন করদাতার আয়, ব্যয় ও সম্পদ অর্জনের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা সহজেই যাচাই করা যাবে। এ ছাড়া করপোরেট কর ফাঁকি বন্ধে কোম্পানিগুলোর জন্য বিশেষ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো তৈরির কাজ চলছে।বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আইনুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, রাজস্ব খাতের ডিজিটালাইজেশন এ প্রস্তাবটি দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মহল থেকে আলোচিত হচ্ছে, তবে মাঠপর্যায়ে এর কার্যকর কোনো বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হয়নি।তবে এনবিআরের এ বাস্তবসম্মত সুপারিশগুলো যদি দ্রুত ও সঠিকভাবে প্রয়োগ করা যায়, তবে দেশের ভঙ্গুর রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় এক বৈপ্লবিক, ইতিবাচক ও টেকসই পরিবর্তন আসবে।সূত্র: নিউজ ২৪