• ঢাকা
  • |
  • বৃহঃস্পতিবার ১৫ই শ্রাবণ ১৪৩৩ সকাল ১১:৫৬:৫৩ (30-Jul-2026)
  • - ৩৩° সে:
বিকাশের ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেফতার ২

বিকাশের ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেফতার ২

ডেস্ক রিপোর্ট: ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় বিকাশের ইলেকট্রনিক অর্থ (ই-মানি) হিসেবে ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নায়ফা ট্রেড বিডির দুই কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।পুলিশ জানিয়েছে, আত্মসাৎ হওয়া বাকি ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা উদ্ধারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় গ্রেফতার দুই আসামির সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।গ্রেফতাররা হলেন নায়ফা ট্রেড বিডির অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার মো. আল আমিন (২১) এবং নায়ফা ট্রেড বিডি-আশুলিয়া শাখার অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার ইউসুফ রায়হান (২৪)।পুলিশের রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আল আমিন ২০২২ সালের ২০ মে থেকে এবং ইউসুফ রায়হান ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া জাহিদ হাসান অন্তর ২০২৬ সালের ১৪ জুন থেকে ডিস্ট্রিবিউশন সেলস অফিসার (ডিএসও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।মামলার বাদী নায়ফা ট্রেড বিডি ও নায়ফা ট্রেড বিডি-আশুলিয়ার সহকারী জেনারেল ম্যানেজারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৪ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে আল আমিন বিকাশ লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত ঢাকা ব্যাংকের একটি হিসাব থেকে ই-মানি উত্তোলনের উদ্দেশ্যে প্রধান কার্যালয়ের সিনিয়র অ্যাকাউন্টস জেনারেল ম্যানেজারের কাছে ওটিপি চান। তিনি সরল বিশ্বাসে ওটিপি দিয়ে দেন। পরে অফিস বন্ধ হওয়ার পর বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়।এরপর রাত সাড়ে ৯টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার বঙ্গ মার্কেটে ইউসুফ রায়হানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১০টার দিকে ফ্যান্টাসি কিংডমের পেছনের চিত্রশাইল-কাঠালতলা এলাকা থেকে আল আমিনকে আটক করা হয়। পরে তাদের অফিসে নিয়ে হিসাব-নিকাশ যাচাই করা হয়।রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, ওটিপি ব্যবহার করে আল আমিন ঢাকা ব্যাংকের হিসাব থেকে ১ কোটি ৫ লাখ টাকার ই-মানি মাস্টার ওয়ালেটে স্থানান্তর করেন। এর মধ্যে ৬৫ লাখ টাকার ই-মানি ইউসুফ রায়হানের বিকাশ এসএ ওয়ালেটে পাঠানো হয়। ওই অর্থ বাজারে বিতরণ না করে নিজেদের কাছে রাখা হয় বলে পুলিশের দাবি। বাকি ৪০ লাখ টাকার ই-মানি বাজারে বিতরণ করা হয়েছিল।পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের সময় আল আমিনের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা এবং ইউসুফ রায়হানের কাছ থেকে ২২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে ৭২ লাখ টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে নায়ফা ট্রেড বিডি কর্তৃপক্ষ।তদন্তে পুলিশের দাবি, আত্মসাতের ঘটনায় জাহিদ হাসান অন্তরও জড়িত। তাদের অভিযোগ, আল আমিন, ইউসুফ রায়হান ও জাহিদ হাসান অন্তর মিলে ২৪ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে নায়ফা ট্রেড বিডি ও নায়ফা ট্রেড বিডি-আশুলিয়া কার্যালয় থেকে মোট ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকার ই-মানি আত্মসাৎ করেন। ঘটনার পর জাহিদ হাসান অন্তর আত্মগোপনে চলে যান।নায়ফা ট্রেড বিডি কর্তৃপক্ষের দাবি, আত্মসাতের পর অভিযুক্তরা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেফতার করে।আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, আত্মসাৎ হওয়া বাকি ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।