• ঢাকা
  • |
  • শুক্রবার ৬ই চৈত্র ১৪৩২ সন্ধ্যা ০৭:৫৬:৩৮ (20-Mar-2026)
  • - ৩৩° সে:
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল ঘোষণা মালয়েশিয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল ঘোষণা মালয়েশিয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল ঘোষণা করেছে মালয়েশিয়া। দেশটির বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী জোহারি আব্দুল গনি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড’ শীর্ষক চুক্তিটি এখন থেকে অকার্যকর এবং এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই।গত বছরের ২৬ অক্টোবর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন। চুক্তির আওতায় মালয়েশিয়ার পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ১৯ শতাংশ শুল্ক আরোপের পাশাপাশি কিছু পণ্যে শুল্ক ছাড় দেয়, আর বিনিময়ে মালয়েশিয়া মার্কিন বাজারে প্রবেশাধিকার ও নীতিগত সহায়তা প্রদান করে।সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি বাতিল করায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে করা এসব বাণিজ্য চুক্তির ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। এর প্রেক্ষিতে প্রথম দেশ হিসেবে মালয়েশিয়া এই চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিল।বর্তমানে মার্কিন সরকার ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ ধারা ব্যবহার করে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ওপর অস্থায়ীভাবে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, যা আগামী ১৫০ দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।মন্ত্রী জোহারি আব্দুল গনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো শুল্ক আরোপ করতে চাইলে তা নির্দিষ্ট খাতভিত্তিক ও যৌক্তিক কারণের ওপর নির্ভর করতে হবে। সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতির অজুহাতে শুল্ক আরোপ গ্রহণযোগ্য হবে না।সরকারি তথ্যমতে, ২০২৫ সালে মালয়েশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানির পরিমাণ ছিল প্রায় ২৩৩ বিলিয়ন রিঙ্গিত। এর মধ্যে বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিকস পণ্য, তেল ও গ্যাস, পাম তেল এবং রাবারভিত্তিক শিল্প সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এসব খাতে শুল্ক আরোপ হলে দেশের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।এ পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়া সরকার রফতানিকারকদের আন্তর্জাতিক শ্রম ও পরিবেশগত মান কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে বাণিজ্যে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়ার এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও ভারত যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির সঙ্গে সমন্বয় করলেও সাম্প্রতিক আদালতের রায়ে এসব চুক্তির অনেক সুবিধাই কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।