• ঢাকা
  • |
  • শুক্রবার ২২শে কার্তিক ১৪৩৩ রাত ০৮:৫২:৩৯ (06-Nov-2026)
  • - ৩৩° সে:
নিজ গ্রামে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সেনা সদস্য তিতাশ শেখ

নিজ গ্রামে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সেনা সদস্য তিতাশ শেখ

ফরিদপুর প্রতিনিধি: টেকনাফে মানব পাচারকারীদের গুলিতে নিহত সেনাসদস্য তিতাশ শেখকে (২৮) নিজ গ্রামের কবরস্থানে দাফন দেওয়া হয়েছে।৬ নভেম্বর শুক্রবার বাদ মাগরিব জানাজা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সামরিক আনুষ্ঠানিকতায় গার্ড অফ অনার ও স্যালুট জানিয়ে তাকে শেষ বিদায় জানানো হয়।সামরিক সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের লস্করদিয়া কবরস্থানে পরিবার-পরিজন, স্বজন ও এলাকাবাসীর অশ্রুসজল ধারার চিরতরে মাটির বিছানায় শুইয়ে দেওয়া হয় তিতাশকে। এভাবেই দেশের এক সম্ভাবনাময় সন্তানের নশ্বর জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে।এর আগে বিকেল ৪টা ৪১ মিনিটে নগরকান্দা মাহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমী মাঠে কক্সবাজারের রামু থেকে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে নিহত সেনা সদস্যের মরদেহ অবতরণ করে। ওই মাঠে উপস্থিত পদ্মা সেনানিবাস ক্যাম্পের ১৫ আরই রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মেজর সোহেল আহমেদের নেতৃত্বে একটি দল মরদেহটি গ্রহণ করেন।বিকেল ৫টার দিকে গাড়িতে করে মরদেহটি নিয়ে যাওয়া হয় লস্করদিয়া ইউনিয়নের লস্করদিয়া আতিকুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। সেখানে বাদ মাগরিব নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।এখানে পরিবারের পক্ষ থেকে নিহতের মামা ও লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবুল তালুকদার, নগরকান্দা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খায়রুল হাসানসহ এলাকার কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি বক্তব্য দেন।জানাজা শেষে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে তিতাশের মরদেহটি নিয়ে যাওয়া হয় লস্করদিয়াগ্রামের নিজ বাড়িতে। ওই সময় এক বেদনাবিধুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মৃতের মা, বাবা, স্ত্রীসহ আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর আহাজারিতে বাতাস ভারি হয়ে ওঠে।এরপরে পাশের কবরস্থানে দাফন করা হয় তিতাসকে। এসময় সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল শসস্র সালাম, গাড অব অনার প্রদান করে।পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগদান করেন তিতাস শেখ। তিনি সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সদস্য হিসেবে টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। গত চার বছর আগে পার্শ্ববর্তী গ্রামের সুমাইয়া আক্তারকে (২২) বিয়ে করেন। আগামী ডিসেম্বর মাসে স্ত্রীকে তার কর্মস্থলে নেয়ার কথা ছিল তিতাস শেখের। কিন্তু একটি বুলেট তাকে থামিয়ে দিল তার পথ চলা।সেনাসদস্য তিতাসের বাবা আফজাল শেখ অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য এবং ছোট ভাই আকরাম হোসেনও বর্তমানে সেনাবাহিনীতে কর্মরত রয়েছেন। স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার স্বামীকে হারিয়ে বিলাপ করে বলছেন- ‘আমাকেও নিয়ে যাও, আমি কেমনে থাকব! আমার কোনো অস্তিত্ব রইলো না! আল্লাহ, আমি এখন কি করব!’শোকে পাগলপ্রায় তিতাশের মা রেখা বেগম। রেখা বেগম জানান, গত বুধবার রাতে ছেলের সাথে শেষ কথা হয়েছিল তার। তিতাস তখন বলেছিল- ‘আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাব, দোয়া কইরো মা।’ কিন্তু তার এই কথা ছিল শেষ কথা হবে তা ঘুণাক্ষরেও আঁচ করতে পারেনি মা রেখা বেগম। সন্তানের নিহতের খবর পাওয়ার পর থেকে শুধুই বিলাপ করে যাচ্ছেন।ছেলেকে হারিয়ে বাবা আফজাল শেখের মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছে না। বাগরুদ্ধ হয়ে শুধুই ঝরছে চোখের পানি।প্রসঙ্গত আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযান চলাকালে সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে আহত হন সেনাসদস্য তিতাস শেখ। তার বুকের বাঁ পাশে গুলি লাগে।পরে তাকে স্থানীয় আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বেসামরিক অ্যাম্বুলেন্সে করে রামু সিএমএইচে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।এটিভি/ এইচকে