• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ২৩শে কার্তিক ১৪৩৩ দুপুর ১২:৫৫:০৭ (07-Nov-2026)
  • - ৩৩° সে:
অভিশংসনের পর গৃহবন্দি প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনিয়া

অভিশংসনের পর গৃহবন্দি প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ব্যাংকিং সংকট ও অনিয়মের অভিযোগে অভিশংসনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্যারাগুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনিয়াকে গৃহবন্দি করা হয়েছে। ৬ নভেম্বর শুক্রবার দেশটির সিনেটে অভিশংসন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁকে গৃহবন্দি করা হয়। খবর বিবিসির।চলতি সপ্তাহের শুরুতে ডিজিটাল ব্যাংক উয়েনোর পতনকে কেন্দ্র করে প্যারাগুয়েতে রাজনৈতিক ও আর্থিক সংকট দেখা দেয়। এ ঘটনায় পেনিয়ার বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাত, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ এবং পেনশন তহবিলের অর্থ ব্যাংকটিতে রাখার মাধ্যমে অনিয়মে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।বৃহস্পতিবার পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন পেনিয়া। তবে তাঁর পদত্যাগ গ্রহণ না করে অভিশংসন প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আইনপ্রণেতারা। শুক্রবার সিনেটের ৪৫ সদস্যের মধ্যে ৪৪ জন তাঁকে অভিশংসনের পক্ষে ভোট দেন। একজন অনুপস্থিত ছিলেন। পরে সিনেটের প্রেসিডেন্ট বাসিলিও নুনিয়েজ দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে তাঁকে দোষী ঘোষণা করেন।অভিশংসনের ফলে সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে পাওয়া আজীবন সিনেট সদস্যপদ ও দায়মুক্তির সুবিধাও হারিয়েছেন পেনিয়া। সরকারি কৌঁসুলিরা তাঁকে বিশ্বাসভঙ্গ, প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা আদায় ও তহবিল আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত করছেন।এরপর প্যারাগুয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। ২০২৮ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। শপথের পর আলিয়ানা বলেন, ‘আর্থিক বিপর্যয়ের কারণে যারা এখন কঠিন সময় পার করছেন, তাদের সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’উয়েনো ব্যাংকের পতনের পর প্রায় ৩০ লাখ গ্রাহক তাঁদের ব্যাংক হিসাবে থাকা অর্থ ব্যবহারের সুযোগ হারিয়েছেন। ব্যাংকটির গ্রাহকসংখ্যা প্যারাগুয়ের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ। গ্রাহকদের মধ্যে পেনশনভোগীরাও রয়েছেন। সংকটের জেরে রাজধানী আসুনসিওনসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা পেনিয়ার পদত্যাগ ও তাঁদের অর্থ ফেরতের দাবি জানান।পেনিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ, উয়েনো ব্যাংকের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা ছিল। গত বছর পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠানে তাঁর শেয়ার ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে পেনিয়া দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, "আপনারা আমার ওপর যে আস্থা রেখেছিলেন, তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা কখনোই আমার উদ্দেশ্য ছিল না"।২০২৩ সালের নির্বাচনে রক্ষণশীল কলোরাডো পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন পেনিয়া। এদিকে সংকটের ঘটনায় ভাইস প্রেসিডেন্ট আলিয়ানার বিরুদ্ধেও অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এগোয়নি।উয়েনো ব্যাংককে জব্দ করার পর আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগে কংগ্রেস অনুমোদন দিয়েছে।এটিভি/এসআইআর