• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ৯ই ফাল্গুন ১৪৩২ সন্ধ্যা ০৭:২৫:০৯ (21-Feb-2026)
  • - ৩৩° সে:
কচুয়ায় থামছে না কৃষি জমির মাটি বিক্রি, উর্বরতা হারাচ্ছে ফসলি জমি

কচুয়ায় থামছে না কৃষি জমির মাটি বিক্রি, উর্বরতা হারাচ্ছে ফসলি জমি

কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিনিধি: চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় কৃষি জমি মাটি কাটার মহাউৎসব চলছে, কোনোভাবেই থামছে না কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে বিক্রি। পরিবেশ আইন অমান্য করে প্রভাবশালীরা ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে কৃষি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়ছে। ভারী যানবাহনের কারণে ভেঙে যাচ্ছে এলাকার রাস্তা-ঘাটও।অভিযোগ রয়েছে, একদল অসাধু ব্যবসায়ী কৃষকদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে কম দামে জমি কিনে বা চুক্তিতে নিয়ে উর্বর মাটি বেশি দামে বিক্রি করছে। এসব মাটি ইটভাটা ও ঘরের ভিট তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।প্রশাসনের দাবি, জমির উপরিভাগের মাটি কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কচুয়া উপজেলার বাছাইয়া, ঘাগড়া, দোয়াটি ও তেতৈয়া বিল এলাকায় প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ট্রাক ও ট্রাক্টরের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। কয়েক শতাধিক একর ফসলি জমি ইতোমধ্যে গভীর গর্তে পরিণত হয়েছে। ফলে আশপাশের জমিও ভেঙে পড়ছে এবং অনেক স্থানে সেচের পানি পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে কৃষকদের উৎপাদন ব্যাহত হয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।বাছাইয়া গ্রামের কৃষক রঞ্জিত বলেন, “আমার পাশের জমিতে মাটি কেটে নেওয়ায় গর্ত তৈরি হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই আমার শেষটুকু জমিও বিলীন হয়ে যাবে। এই জমির ফসল দিয়েই আমার সংসার চলে।”এসময় মকবুল নামে মাটি ব্যবসায়ী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, আইনে কি বলা আছে আমি জানিনা তবে আমি কৃষকের কাছ থেকে মাটি কিনে বিক্রি করি‌।এ বিষয়ে কচুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু নাছির বলেন, “কৃষি জমি থেকে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খবর পেলেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যারা অবৈধভাবে মাটি কাটবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে কঠোর নজরদারি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে কৃষি জমি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, নইলে ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।