• ঢাকা
  • |
  • বৃহঃস্পতিবার ১৭ই বৈশাখ ১৪৩৩ রাত ১১:০৯:২৩ (30-Apr-2026)
  • - ৩৩° সে:
টানা বৃষ্টির কারণে ভেঙে গেল কৃষকের স্বপ্ন

টানা বৃষ্টির কারণে ভেঙে গেল কৃষকের স্বপ্ন

জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলায় ইরি-বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে ভেঙে গেল কৃষকের স্বপ্ন।ভারী বৃষ্টির কারণে বকশিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মাঠে পানি জমে গেছে। আধাপাকা ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে এতে আধা পাকা ধান কাটা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা।উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক জমির ধান ইতোমধ্যে পেকে সোনালি রং ধারণ করেছে। কিছু ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কৃষকরা। তবে হঠাৎ বৃষ্টিপাত তাদের সেই প্রস্তুতিতে বাধা সৃষ্টি করেছে। জমিতে পানি জমে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা মাঠে নামতে পারছেন না। আদা পাকা ধানিই কেটে নিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা।গাজীরপাড়া গ্রামের কৃষক মজনু গাজী জানান, তিনি ৪ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন।তিনি বলেন, ধান এখনো পুরোপুরি পাকেনি। এখন বৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে আছে। আর কয়েকদিন এমন বৃষ্টি হলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। এর আগে কাটা খালি খাল দিয়ে পানি দ্রুত নেমে যেত, কিন্তু এখন খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি সহজে নামতে পারছে না।একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিলের পারের কৃষক সরিফ মিয়া। তিনি জানান, ১০ বিঘা জমিতে হাইব্রিড এসটি জাতের ধানের আবাদ করেছেন। ধান এখনো পাকেনি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ধানগুলো তলিয়ে যাচ্ছে। আর পানির নিচে ধান থাকলে ধান এমনিতেই নষ্ট হয়ে যাবে। পাশাপাশি শ্রমিক সংকটও রয়েছে।তিনি বলেন, ধান কাটার সময় এমন বৃষ্টি কৃষকদের জন্য বড় সমস্যা। শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না, যারা আছে তারা বেশি টাকা দাবি করছে। এখন কীভাবে ধান কাটবো তা নিয়ে চিন্তায় আছি।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বকশিগঞ্জ উপজেলায় ১২ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ভালো ফলনের আশা করা হলেও হঠাৎ বৃষ্টিপাতে কৃষকদের মধ্যে নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে।স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, আগামী কয়েকদিন আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে আধা পাকা ধানের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। তারা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, খাল সংস্কার এবং কৃষি যন্ত্রপাতিতে সরকারি সহায়তা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।বছরের অন্যতম প্রধান ফসল ঘরে তুলতে এখন আকাশের দিকে তাকিয়ে উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় পার করছেন বকশিগঞ্জ হাজারো কৃষক।