• ঢাকা
  • |
  • শুক্রবার ২৭শে ভাদ্র ১৪৩৩ সকাল ০৭:১২:৩৮ (11-Sep-2026)
  • - ৩৩° সে:
জানাজা শেষে পাশাপাশি কবরে শায়িত হলো পাঁচ কিশোরী

জানাজা শেষে পাশাপাশি কবরে শায়িত হলো পাঁচ কিশোরী

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর শাখা ‘মরা নদী’তে একসঙ্গে ডুবে মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর জানাজা শেষে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়েছে।২৮ আগস্ট শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলার দেবিনগর ইউনিয়নের চরচাকলা গ্রামের নজিপুর এলাকায় পদ্মার শাখা মরা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের সময় স্কুল ছুটির সুযোগে চরচাকলা গ্রামের ওই পাঁচ শিশু একসঙ্গে নদীতে গোসল করতে যায়। এ সময় একজন হঠাৎ তলিয়ে গেলে তাকে বাঁচাতে গিয়ে বাকিরাও পানির নিচে তলিয়ে যায়। পরে এক নারী পানিতে তাদের তলিয়ে যাওয়ার খবর দিলে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালান। পরে স্থানীয়দের চেষ্টায় পানি থেকে তাদের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।নিহত শিশুরা হলো- চরচাকলা গ্রামের শরিফুল ইসলামের মেয়ে শরিফা খাতুন (৮), মাসুদ রানার দুই মেয়ে সুমাইয়া খাতুন (৯) ও আবিদা খাতুন (৭) এবং নেজামুল হকের দুই মেয়ে সুরাইয়া খাতুন (৯) ও সুমাইয়া খাতুন (১২)। তারা সবাই ২০০ মিটারের মধ্যে বসবাসকারী তিনটি পরিবারের সন্তান।একসঙ্গে গোসলে গিয়ে যেমন মৃত্যু হয়েছে, তেমনি তাদের দাফনের আয়োজনও হয়েছে একই গোরস্থানে। চরচাকলা গোরস্থানে পাশাপাশি পাঁচটি কবর খুঁড়ে তাদের সমাহিত করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও কবর খননকারীরা জানান, এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য এর আগে কখনোই দেখা যায়নি। একই গ্রামের পাঁচ শিশুর মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।শুক্রবার বাদ মাগরিব একসঙ্গে জানাজা শেষে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজায় স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের বাসিন্দারা অংশ নেন।চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন জানান, স্থানীয়রা মৃত অবস্থায় শিশুদের মরদেহ উদ্ধার করেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে মরদেহগুলো দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফজাল হোসেন রাজন বলেন, ‘বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক। পানিতে ডুবে ৫ শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়ে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় ঘটনাস্থলে এসেছি।’প্রাথমিকভাবে শিশুদের দাফনের জন্য আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আগামীতেও স্থানীয় প্রশাসন নিহতদের পরিবারের পাশে থাকবে।’ এ সময় প্লাবিত এলাকার অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।