কারাবন্দীর লেখায় নওগাঁ জেলা কারাগারের মহানন্দা-৩
নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁ জেলা কারাগারের একটি ওয়ার্ড-নাম মহানন্দা-৩। সেখানে কাটানো ২৪১ দিনের বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি কবিতামূলক লেখা ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন কারাবন্দী জিবরাইল রাকিব। ছয় দিন আগে প্রকাশিত এই লেখাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।পোস্টটির সঙ্গে তিনি একটি ছবিও যুক্ত করেছেন। ছবিটি দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এটি কোর্ট হাজতে তোলা একটি ছবি। ছবিটি নিয়েও পাঠকদের মধ্যে কৌতূহল ও আলোচনা দেখা গেছে।ফেসবুক পোস্টে জিবরাইল রাকিব নওগাঁ জেলা কারাগারের দৈনন্দিন জীবনের নানা দিক তুলে ধরেছেন। ভোর হওয়ার আগেই দিনের শুরু, হাজিরা প্রক্রিয়া, কারা-পদ্ধতির নিয়মকানুন, হাজতি ও কয়েদির পার্থক্য কারাবন্দীর সহাবস্থানের অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে তাঁর লেখায়। লেখকের ভাষায়, এই বন্দিজীবনের মধ্য দিয়েই তিনি উপলব্ধি করেছেন-মানুষ কখনোই মূল্যহীন নয়।লেখায় উল্লেখ করা হয়, নওগাঁ জেলা কারাগারের মহানন্দা নামের ভবনটি চার ভাগে বিভক্ত। এর মধ্যে তিন নম্বর অংশে তিনি অবস্থান করতেন, যা পরিচিত ‘মহানন্দা-৩ নামে। ভবনের নাম নদীর নামে হওয়ায় লেখক মানবজীবনের উত্থান-পতনের সঙ্গে নদীর স্রোতের প্রতীকী মিল খুঁজে পেয়েছেন।এই কবিতামূলক লেখায় রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার প্রতিফলনও রয়েছে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং সমসাময়িক সময়ের বাস্তবতা প্রতীকী ভাষায় উঠে এসেছে। কারাগারের ভেতর থেকেও প্রতিবাদের কণ্ঠ স্তব্ধ হয়নি-এমন বার্তা পাওয়া যায় পুরো লেখা জুড়ে।পোস্টের সঙ্গে যুক্ত ব্যাখ্যায় জিবরাইল রাকিব উল্লেখ করেন, গত বছরের ১৭ জানুয়ারি তিনি গ্রেপ্তার হন এবং প্রায় আট মাস কারাবন্দী ছিলেন। কারাবাসের প্রথম দিনগুলো তিনি কাটিয়েছেন নওগাঁ জেলা কারাগারের মহানন্দা-৩ ওয়ার্ডে। লেখায় তিনি কারাগারকে তাঁর জীবনের শিক্ষকবিহীন শ্রেষ্ঠ শিক্ষা পীঠ হিসেবে উল্লেখ করেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাঠকেরা এই লেখাটিকে কেউ দেখছেন বন্দিজীবনের বাস্তব দলিল হিসেবে, কেউ দেখছেন প্রতিবাদী সাহিত্য হিসেবে। অনেকের মতে, লেখার সঙ্গে যুক্ত ছবিটি এবং অভিজ্ঞতার বর্ণনা মিলিয়ে এটি সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য হয়ে উঠেছে।