• ঢাকা
  • |
  • রবিবার ২৬শে আশ্বিন ১৪৩৩ রাত ০৮:০৩:৩৭ (11-Oct-2026)
  • - ৩৩° সে:
বাল্যবিবাহ ও বৈষম্য রোধে কন্যাশিশুর নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বাল্যবিবাহ ও বৈষম্য রোধে কন্যাশিশুর নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

অনলাইন ডেস্ক: বাল্যবিবাহ, শিশু নির্যাতন ও কন্যাশিশুর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য রোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।তিনি বলেন, ‘প্রতিটি কন্যাশিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠার সমান সুযোগ, মানসম্মত শিক্ষা, সুস্বাস্থ্য এবং নিজস্ব প্রতিভা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাল্যবিয়ে রোধ করা নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব।’জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ১১ অক্টোবর রোববার এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। আগামীকাল ১২ অক্টোবর দিবসটি পালিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’।রাষ্ট্রপতি বলেন, আজকের কন্যাশিশু জাতির ভবিষ্যৎ। তারা আগামী দিনের মানবসম্পদ এবং অফুরন্ত সম্ভাবনাময় নাগরিক। সঠিক শিক্ষা, সুস্বাস্থ্য, দক্ষতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে প্রত্যেক কন্যাশিশু পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য অমূল্য সম্পদ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য, সহিংসতা, নিরাপত্তাহীনতা ও বাল্যবিবাহের কারণে তাদের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়।তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি কন্যাশিশুসহ সব শিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠা, মানসম্মত শিক্ষা লাভ, সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং নিজস্ব প্রতিভা বিকাশের সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এক্ষেত্রে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে।রাষ্ট্রপতি জানান, নারী ও কন্যাশিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। বাল্যবিবাহ বন্ধে বাল্যবিবাহ নিরোধ কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশব্যাপী কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং এগুলোকে আরো সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।কন্যাশিশুর অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের ইতিবাচক ভূমিকা অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ, শিশু নির্যাতন ও সহিংসতা প্রতিরোধ এবং কন্যাশিশুর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য নিরসনে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে সবাইকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে।তিনি আরও বলেন, কন্যাশিশুর যথাযথ বিকাশ নিশ্চিত করা এবং তাদের প্রতি সম্মান, সমতা ও সহমর্মিতার পরিবেশ তৈরিতে পারিবারিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের বিকল্প নেই। কন্যাশিশুর মতামতের গুরুত্ব দিতে হবে এবং তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।রাষ্ট্রপতি বলেন, কন্যাশিশুর জন্য সহায়ক ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে একটি আধুনিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত হবে।জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রতিটি কন্যাশিশুর অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিটি কন্যাশিশুর স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ বিকাশ নিশ্চিত করাই হোক রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত অঙ্গীকার।সূত্র: বাসস