নির্বাচনের ফল নিয়ে অসন্তোষ জামায়াতের, কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশে প্রথমবারের মতো এই নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে গণভোট। উৎসবমুখর পরিবেশে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯টি আসনে একটানা চলেছে ভোটগ্রহণ। এরই মধ্যে অধিকাংশ আসনের ফলাফলও ঘোষণা হয়ে গেছে বেসরকারিভাবে, যেখানে জয়-জয়কার বিএনপির। সবশেষ প্রাপ্ত বেসরকারি ফলে নিশ্চিত হয়ে গেছে, বিএনপির নেতৃত্বেই গঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের আগামী সরকার। ফলে, প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েই সরকারপ্রধান হওয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে, এই ফলাফল নিয়ে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একইসঙ্গে কঠোর আন্দোলনে হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে।১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে নির্বাচনের কমিশনের সামনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ হুঁশিয়ারি দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। এর আগে, নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ দিতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) যান দলটির ইসলামীর ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল।এহসানুল জুবায়ের বলেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় কমিশন অস্বাভাবিকভাবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিলম্ব করেছে। আমাদের শীর্ষ নেতাদের আসনগুলোর এজেন্টদের কাছ থেকে পাওয়া সিট অনুযায়ী, রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে ফলাফল ঘোষণা কথা। কিন্তু সেটা এখনও হয়নি।তিনি বলেন, কিছু কিছু আসনে রিটার্নিং অফিসাররা স্বাক্ষর করাও পরও কিছু সময় তা পরিবর্তন করেছেন। ঢাকা-১৭ আসনে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। কমপক্ষে আটটি সিটে তারা এই ধরনের পরিবর্তন করেছেন, ওভার রাইটিং করা হয়েছে। কারণ জানতে চাইলে বলেছেন, ভুল হয়েছে তাই সংশোধন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন কেন্দ্রগুলোর রেজাল্ট সিট ওভার রাইটিং করে পাঁচ হাজার ভোট কমানো হয়েছে। আমরা মনে করি, একটি বিশেষ দলের প্রধানকে সুবিধা দেওয়ার জন্য এই কাজ করা হয়েছে। আমাদের এজেন্টদের কথা বলতে দেওয়া হয়নি।ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের আমিরের প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রসঙ্গে টেনে এহসানুল জুবায়ের বলেন, ঢাকার প্রায় সবগুলো আসনেই ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ফলাফল দিতে এ ধরনের গড়িমসি করা হয়েছে। প্রায় তিন লাখ ভোটারের ১২৯টি কেন্দ্র; অনেক বড় বড় আসনে তড়িৎ গতিতে ফলাফল দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই আসনে এখন পর্যন্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। ইতোমধ্যে আরেক প্রার্থী বলেছেন তিনি পাস করেছেন। যেখানে কমপক্ষে ২০ হাজারের বেশি ভোটে আমরা এগিয়ে আছি।একটি বিশেষ দলকে সুবিধা দেওয়ার জন্য ইসি ও সংশ্লিষ্টরা এই ষড়যন্ত্রে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, সারা দেশের আসনগুলো পর্যালোচনা করে আমরা দেখতে পেয়েছি, একই ধরনের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।এহসানুল জুবায়ের বলেন, স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যে জাতি ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে, সে জাতিকে চক্রান্ত করে মাথা নত করানো যাবে না। দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধের দূর্গ গড়ে তুলবো।নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ইসিতে যাচ্ছি, সেখানে আমরা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করবো। নির্বাচনি কর্মকর্তাদের অবহিত করবো। আমরা যেকোনো চক্রান্তের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ করবো। প্রয়োজনে খুবই কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। আমরা চাই না অতীতের যারা ফ্যাসিবাদী কায়দায় নির্বাচন দিয়েছিল, একই পরিণতি এই কমিশন ভোগ করুক।জামায়াতের এই নেতা বলেন, কঠোর আন্দোলনে যাব। জনগণের যে কোনো রায় বা মতামকে আমরা সম্মান করি, শ্রদ্ধা করি এবং তা মেনে নেব। কিন্তু কেউ চক্রান্ত করে জনগণের সেই রায় বদলে দিতে চাইলে তা মেনে নেবো না।