• ঢাকা
  • |
  • বৃহঃস্পতিবার ৭ই কার্তিক ১৪৩৩ সকাল ১১:০৩:৫০ (22-Oct-2026)
  • - ৩৩° সে:
সৌদি বিমানবন্দরে নিহত ওমরাহযাত্রীর পরিবারের দায়িত্ব নিলেন ধর্মমন্ত্রী

সৌদি বিমানবন্দরে নিহত ওমরাহযাত্রীর পরিবারের দায়িত্ব নিলেন ধর্মমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট: সৌদি আরবের রিয়াদে বিমানবন্দরে হুথিদের মিসাইল হামলায় নিহত বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রী মুফতি মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরির পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। নিহতের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে পরিবারের স্থায়ী আবাসন ও সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী।এদিকে, হামলায় আহত ও আটকে পড়া ওমরাহযাত্রীদের উদ্ধার, চিকিৎসা, দেশে প্রত্যাবর্তন এবং নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছে দিতে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। দেশে ফেরা যাত্রীরা এ সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ধর্মমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার শিকার হন বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ৪৫ সদস্যের একটি ওমরাহ কাফেলা। এ ঘটনায় বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি নিহত হন ৪৫ বছর বয়সী মুফতি মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি। তিনি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুরের বাসিন্দা এবং ওই কাফেলার দলনেতা ছিলেন। হামলায় কাফেলার আরও কয়েকজন সদস্য আহত হন।হামলার খবর পাওয়ার পরপরই ধর্মমন্ত্রী কাফেলার সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে উদ্যোগ নেন তিনি। সে সময় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকলেও সার্বক্ষণিকভাবে তাঁদের খোঁজখবর নেন ধর্মমন্ত্রী।হামলায় ওমরাহযাত্রীদের লাগেজ হারিয়ে গেলে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাঁদের আপ্যায়ন ও নতুন পোশাকের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি দেশে ফেরার টিকিট নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়।নিহত নাসরুল্লাহ বদরপুরির পরিবারের খোঁজখবর নিতে গত ১৩ অক্টোবর ধর্মমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মাওলানা ইয়াকুব ওসমানীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নাঙ্গলকোটের বদরপুরে তাঁর বাড়িতে যায়। এ সময় পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। নিহতের মরদেহ দাফন, পরিবারের স্থায়ী আবাসন এবং সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।পরিবারের সঙ্গে ফোনালাপে নাসরুল্লাহর মরদেহ জান্নাতুল বাকিতে দাফন অথবা দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন ধর্মমন্ত্রী। পাশাপাশি পরিবারটিকে ব্যক্তিগতভাবে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেন তিনি।এদিকে, হামলার শিকার ৪৫ সদস্যের ওমরাহ কাফেলার ৩৩ জন সদস্য ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেন। ধর্মমন্ত্রীর নির্দেশনায় তার একান্ত সচিব ছাদেক আহমদ, পরিচালক (হজ) মো. লোকমান হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে দেশে ফেরা যাত্রীদের অভ্যর্থনা জানান।এ সময় ওলামায়ে কেরামের পক্ষে জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের মহাসচিব আকরাম হোসাইনের নেতৃত্বে ওমরাহ কাফেলার সদস্যরা বিপদের মুহূর্তে পাশে থাকা ও সার্বিক সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ধর্মমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ জানান।দেশে ফেরা যাত্রীরা জানান, সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার পর ধর্মমন্ত্রী সার্বক্ষণিক তাঁদের খোঁজখবর নিয়েছেন, প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করেছেন এবং দেশে ফিরিয়ে এনে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে যানবাহনের ব্যবস্থা করেছেন। এ জন্য তাঁরা প্রধানমন্ত্রী ও ধর্মমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।পাশাপাশি, সৌদি আরবে অবস্থানকালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, আবাসন ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ায় সৌদি সরকারের প্রতিও আন্তরিক ধন্যবাদ জানান ওমরাহযাত্রীরা।বিমানবন্দরে এ সময় জামেয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদরাসার অধ্যক্ষ মুফতি ফয়জুল্লাহ, জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।এটিভি/এসআইআর