• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ১৫ই আষাঢ় ১৪৩৩ দুপুর ০১:০৪:১৭ (29-Jun-2026)
  • - ৩৩° সে:
দণ্ডিত সেই ঐশী এখন কারাগারের লাইব্রেরিয়ান

দণ্ডিত সেই ঐশী এখন কারাগারের লাইব্রেরিয়ান

ডেস্ক রিপোর্ট: বাবা-মা হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমানের মেয়ে ঐশী রহমান বর্তমানে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের লাইব্রেরিয়ান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কারা কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।কারা সূত্র জানায়, ১৯ বছর বয়সে কারাগারে যাওয়া ঐশী এখন যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন। প্রচলিত আইনি ব্যাখ্যা অনুযায়ী যাবজ্জীবন দণ্ডের মেয়াদ ৩০ বছর। সে হিসাবে তিনি ইতোমধ্যে প্রায় ১৩ বছর কারাভোগ করেছেন। কারাগারে শৃঙ্খলাপূর্ণ আচরণ বজায় রাখলে সরকার নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সাজা আংশিক মওকুফের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট ঢাকার চামেলীবাগে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ঐশী পল্টন থানায় আত্মসমর্পণ করে বাবা-মাকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তিনি সেই জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেন।২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর ঢাকার একটি আদালত ঐশীকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে ২০১৭ সালের ৫ জুন হাইকোর্ট সেই দণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই মামলায় বন্ধু মিজানুর রহমান রনি দুই বছরের কারাদণ্ড পান এবং অপর বন্ধু জনি খালাস পান।কারা অধিদপ্তরের এআইজি (উন্নয়ন ও মিডিয়া) জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, ‘ঐশী বর্তমানে কারাগারের লাইব্রেরিয়ান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং মহিলা ওয়ার্ডেই থাকেন।’ফাঁসির আদেশ বহাল থাকার সময় প্রায় দেড় বছর কনডেম সেলে ছিলেন ঐশী। পরে যাবজ্জীবন সাজা কার্যকর হলে তাকে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।বর্তমানে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা এবং বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কারাগারের লাইব্রেরিতে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বই নিবন্ধন ও লাইব্রেরির সার্বিক দেখভালের পাশাপাশি অবসরে ইংরেজি গল্প-উপন্যাস পড়েন। কারা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, তার আচরণ ভালো, তবে তিনি খুব কম কথা বলেন। শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যাও রয়েছে তার।এ ছাড়া কারাগারের ফুলের বাগান পরিচর্যা করতেও আগ্রহী ঐশী। মাঝে মধ্যে তার নানা-নানির পরিবারের সদস্যরা দেখা করতে এলেও দাদা-দাদির পরিবারের কেউ তাকে দেখতে আসেন না বলে জানিয়েছে কারা সূত্র।হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত উদ্দেশ্যে নয়, বরং মানসিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সংঘটিত হয়েছিল। ঐশীর বয়স, পূর্বে কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকা, স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ এবং পারিবারিকভাবে মানসিক অসুস্থতার ইতিহাসসহ কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।সূত্র: আমার দেশ