প্রথমবার পূর্ণমন্ত্রী, মিল্লাতের রাজনৈতিক উত্থান যেভাবে
জামালপুর প্রতিনিধি: জাতীয়তাবাদী রাজনীতির লড়াকু ব্যক্তিত্ব এবং দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ অঞ্চলের আস্থাভাজন নেতা এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত নতুন দায়িত্ব ও মর্যাদায় ভূষিত হয়েছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) এই কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ ও জামালপুর-১ আসনের বারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবার পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন।২১ আগস্ট শুক্রবার অপরাহ্ণে এক অনাড়ম্বর আয়োজনে তিনি এ দায়িত্ব নেন। সরকারের প্রাথমিক যাত্রাকালে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তাকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব পালনের সফল ছয় মাস অতিক্রম করার পর তিনি এ পদোন্নতি পেলেন।এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের দীর্ঘ রাজনৈতিক সফর শুরু হয়েছিল ১৯৮৬ সালে, বিএনপির সাবেক মহাসচিব মরহুম ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের সান্নিধ্যে। এর পূর্বে তিনি জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে ধানের শীষের আদর্শ প্রচারে ভূমিকা রাখেন। সাংগঠনিক দক্ষতা ও একনিষ্ঠতার সুবাদে ১৯৯১ সালে তিনি বিএনপির মূল ধারার রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। বর্তমানে তিনি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির হাল ধরার পাশাপাশি জামালপুর জেলা বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির অর্থ বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে জামালপুর-১ আসন থেকে প্রথমবার আইনপ্রণেতা হিসেবে তিনি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন।রাজনীতির বাইরে ব্যবসায়ও নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন মিল্লাত। চার দশকের বেশি সময় ধরে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে যুক্ত তিনি। সৌরভ গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্মাণ, প্রকৌশল, মৎস্য ও কৃষিভিত্তিক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে তার ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা রয়েছে।শিক্ষাজীবনেও তিনি সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। প্রয়াত নবাব আলী প্রধান ও রোকেয়া বেগম দম্পতির এই একমাত্র সন্তান ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক (বিএ) সম্পন্ন করে ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে এনডিআই ও সিজিএস-এর মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে নেতৃত্ব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।বাণিজ্যিক খাতেও চার দশকের বেশি সময় ধরে তার সদর্প বিচরণ। ‘সৌরভ গ্রুপ অব কোম্পানিস’-এর চেয়ারম্যান পদে থেকে তিনি আবাসন, নির্মাণ, প্রকৌশল, মৎস্য ও কৃষিনির্ভর শিল্প খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। তিনি ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এবং তুরস্ক-বাংলাদেশ চেম্বারেরও সক্রিয় সদস্য।শুধু রাজনীতি বা বাণিজ্য নয়, সমাজসেবাতেও মিল্লাতের নাম সুপরিচিত। তিনি বিশ্বখ্যাত ‘ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটি’ এবং রোটারি ইন্টারন্যাশনালের (পল হ্যারিস ফেলো) আজীবন সদস্য হিসেবে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অবদান রেখে চলেছেন।ব্যক্তিগত জীবনে তিন সন্তানের জনক এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সহধর্মিণী সাবিরা সুরাইয়া। এলাকা ও তৃণমূলের মানুষের পাশে থাকার গভীর তাড়না এবং বহুমুখী নেতৃত্বের কারণে জামালপুর অঞ্চলে সাধারণ মানুষের কাছে তিনি এক গ্রহণযোগ্য ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব।