৭৪ লাখ টাকার বৃত্তি পেলেন হবিগঞ্জের জান্নাতুল
ডেস্ক রিপোর্ট: উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে গেলেন হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস (জেমি)। চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে পড়াশোনার জন্য প্রায় ৭৪ লাখ টাকা বা ৬০ হাজার মার্কিন ডলারের বৃত্তি পেয়েছেন তিনি।চার বছর মেয়াদি এ বৃত্তির আওতায় প্রতিবছর ১৫ হাজার মার্কিন ডলার করে পাবেন জান্নাতুল।১৮ আগস্ট মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির পরিচালক মৌরি রহমান চিঠির মাধ্যমে জান্নাতুলকে বৃত্তি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।জানা গেছে, জান্নাতুল শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাবা আফজাল আলী পশ্চিম লেঞ্জাপাড়ার বাসিন্দা এবং পেশায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কলেজ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় পড়াশোনা চালিয়ে যান জান্নাতুল।গত বছর জহুর চান বিবি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। এরপর গত ২০ জুলাই থেকে শেভরন বাংলাদেশের সহায়তায় পরিচালিত এক মাসের সামার স্কুল কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিজ্ঞানভিত্তিক ইংরেজি মাধ্যমের এ কর্মসূচি সফলভাবে শেষ করার পর শেভরনের সহায়তায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান তিনি।সামার স্কুলে অংশ নেওয়া জান্নাতুলের জন্য সহজ ছিল না। তবে আগ্রহ, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি কর্মসূচিটি সফলভাবে শেষ করেন।বৃত্তি পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে জান্নাতুল বলেন, ‘এ রকম একটি বৃত্তির কথা শুনে প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিল না। বারবার চিঠি পড়ে বিশ্বাস তৈরি করছিলাম। এখন নিজেকে প্রস্তুত করা শুরু করেছি। আমাকে আরও এগোতে হবে।’তিনি আরও বলেন, তাঁর মতো আরও শিক্ষার্থী যেন এ ধরনের বৃত্তি অর্জন করতে পারে, সেটিই তাঁর প্রত্যাশা।মেয়ের এ অর্জনে আনন্দিত জান্নাতুলের বাবা আফজাল আলী। তিনি বলেন, মেয়েকে উচ্চশিক্ষায় পড়ানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য তাঁর ছিল না। বৃত্তি পাওয়ায় সেই দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমেছে। এখন তাঁর মেয়ে ভালো একটি প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে—এটাই তাঁর জন্য বড় আনন্দের বিষয়।জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জান্নাতুলের এ অর্জন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত। সদিচ্ছা, প্রচেষ্টা ও প্রতিভার সমন্বয় থাকলে নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব—জান্নাতুল তার প্রমাণ।সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক