দুই মাসে ভারত থেকে আমদানি হয়েছে সাড়ে ৩ লাখ কেজি ইলিশ
ডেস্ক রিপোর্ট: ইলিশের মৌসুম এলেই বাংলাদেশের ইলিশের জন্য অপেক্ষায় থাকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। বিশেষ করে দুর্গাপূজার আগে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রপ্তানি হবে কি না, তা নিয়ে প্রতিবছরই আলোচনা হয়। তবে এবার দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। দেশের বাজারের চাহিদা মেটাতে ভারত থেকেই বাংলাদেশে ঢুকছে ইলিশ।চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট—এই দুই মাসে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয়েছে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ। এর মধ্যে জুলাইয়ে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি এবং আগস্টে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে।বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুই মাসে আমদানি করা ইলিশের ঘোষিত মূল্য ৬ কোটি ৯২ লাখ ৯৪ হাজার ৫১০ টাকা। জুলাইয়ে আমদানি করা ইলিশের মূল্য ছিল ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯৬ টাকা। আগস্টে আমদানি করা ইলিশের ঘোষিত মূল্য দাঁড়ায় ৬ কোটি ৫৭ লাখ ৪৫ হাজার ৭১৪ টাকা।জুলাই ও আগস্টে মোট ২২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে ইলিশ এনেছে। এর মধ্যে জুলাইয়ে তিনটি এবং আগস্টে ১৯টি প্রতিষ্ঠান ইলিশ আমদানি করে।বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম বলেন, দুই মাসে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে। মাছ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আমদানিকারকদের কোয়ারেন্টাইন সনদ দেওয়া হয়েছে।স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন জানান, কাস্টমসের ছাড়পত্র ও বন্দরের শুল্ক পরিশোধের পর বাংলাদেশি ট্রাকে করে আমদানি করা ইলিশ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়েছে।বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম প্রধান ইলিশ উৎপাদনকারী দেশ। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে উৎপাদিত মোট ইলিশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়। দেশের নদ-নদী ও বঙ্গোপসাগর ইলিশের গুরুত্বপূর্ণ বিচরণক্ষেত্র হলেও সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাজারের চাহিদা পূরণে বিদেশি ইলিশ আমদানির চিত্র নতুন করে সামনে এসেছে।মৎস্য বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ আশরাফুল আলমের মতে, নদীতে দূষণ ও নাব্য সংকটের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইলিশের আবাসস্থল ও চলাচলে চাপ তৈরি করছে। দেশে ইলিশের উৎপাদন কমে গিয়ে বাজারের চাহিদা মেটাতে প্রতিবেশী দেশের ওপর নির্ভরতা বাড়লে তা ইলিশের ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে।সূত্র: চ্যানেল২৪