বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।১৪ জানুয়ারি বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।ফক্স নিউজের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘স্পেশাল রিপোর্ট উইথ ব্রেট বেয়ার’-এ আরাগচি বলেন, ‘ফাঁসি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনাই নেই। বিষয়টি একেবারেই প্রশ্নের বাইরে।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।তবে নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস সোসাইটি জানায়, ইরানের কারাগারগুলোতে ফাঁসি কার্যকর হওয়া একটি প্রচলিত ঘটনা।এদিকে, মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব শক্ত অবস্থান’ নেবে। যদিও তিনি এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। ট্রাম্প বলেন, ‘যদি তারা ফাঁসি দেয়, তাহলে আপনারা কিছু ঘটনা দেখতে পাবেন।’বুধবার ট্রাম্প আরও জানান, ইরানে চলমান দমন-পীড়নে নিহতের সংখ্যা কমে আসছে বলে তাকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে ব্যাপক আকারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন না।উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ইরানে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলনের মুখে পড়েছে দেশটির শাসকগোষ্ঠী। শুরুতে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হলেও পরে তা সরাসরি ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার পতনের দাবিতে রূপ নেয়। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে এটিকে শাসকদের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তারা ২ হাজার ৪০৩ জন বিক্ষোভকারী এবং সরকার-সমর্থিত ১৪৭ জনের মৃত্যুর তথ্য যাচাই করেছে। একই সঙ্গে ১৮ হাজার ১৩৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি।এদিকে, ইরান সরকার দেশের অর্থনৈতিক সংকটের জন্য বিদেশি নিষেধাজ্ঞাকে দায়ী করছে। পাশাপাশি তারা অভিযোগ করেছে, বিদেশি শত্রুরা দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে।প্রসঙ্গত, গত বছর ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতে জড়ায়। চলতি বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এর পর থেকেই ইরানের ওপর রাজনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়িয়ে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।