সংসদে পাস হলো ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন
ডেস্ক রিপোর্ট: দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা আরও সহজ ও সমন্বিত করতে জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে। নতুন আইনের আওতায় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষ বিলুপ্ত করে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’ গঠন করা হবে।১৫ জুলাই বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।বিলের ওপর আপত্তি জানান বিরোধী দলের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নজিবুর রহমান। তবে কণ্ঠভোটে সেই আপত্তি নাকচ হয়ে যায়। এ বিষয়ে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা সংসদে গৃহীত হয়।নতুন আইনের মাধ্যমে বিডা, বেজা ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম একটি একক সংস্থার অধীনে সমন্বিত হবে। ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ দেশের প্রধান বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে।আইন অনুযায়ী, বিনিয়োগ অনুমোদন, নিবন্ধন, আমদানি-রপ্তানি, প্রণোদনা, শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও সমন্বিত করা হবে।এতে সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস, অনুমোদন ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার ডিজিটালাইজেশন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।সরকারের মতে, নতুন আইন কার্যকর হলে বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান নীতিগত অসামঞ্জস্য ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বের দ্বৈততা কমবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি সমন্বিত বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে উঠবে।আইনের উল্লেখযোগ্য বিধানের মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক অঞ্চল, মুক্তবাণিজ্য অঞ্চল ও ঘোষিত শিল্পাঞ্চলকে একীভূত কাঠামোর আওতায় আনা, লাইসেন্স ও অনুমোদনের নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ, ক্ষুদ্র পিপিপি প্রকল্পে সহজ অনুমোদনের ব্যবস্থা এবং অব্যবহৃত সরকারি জমি, স্থাপনা ও অন্যান্য সম্পদ উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি।এ ছাড়া বিনিয়োগ ও ব্যবসাসংক্রান্ত সব ধরনের সেবা একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার বিধান রাখা হয়েছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা চিহ্নিতকরণ, দেশে ও বিদেশে বিনিয়োগ প্রচার, আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়, বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়ও আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।এছাড়া দেশি-বিদেশি অংশীদারিত্বে বিনিয়োগ উদ্যোগ অনুমোদন, শিল্পে পুঁজি গঠন, বিদেশি কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞ নিয়োগের নীতিমালা, ভিসা সুপারিশ, কর্মানুমতি প্রদান, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যও প্রয়োজনীয় বিধান রাখা হয়েছে।