• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ৩০শে ফাল্গুন ১৪৩২ সকাল ১০:৪৮:৩৯ (14-Mar-2026)
  • - ৩৩° সে:
যশোরের এক মসজিদে বিদেশিসহ ১৬০০ মুসল্লি ইতিকাফে বসেছেন

যশোরের এক মসজিদে বিদেশিসহ ১৬০০ মুসল্লি ইতিকাফে বসেছেন

যশোর প্রতিনিধি: পবিত্র রমজান মাসে দেশের বিভিন্ন মসজিদে মুসল্লিরা ইতিকাফে বসেন। এর ধারাবাহিকতায় যশোরের একটি মসজিদে এবার বড় পরিসরে ইতিকাফে অংশ নিয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৬০০ মুসল্লি, যার মধ্যে ৭৫ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। বিদেশিরা ভারতের, পাকিস্তান, মিয়ানমার, সিঙ্গাপুর, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র ও পানামা থেকে এসেছেন।যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের সতীঘাটা এলাকায় অবস্থিত আশরাফুল মাদারিস কম্পাউন্ডের মসজিদে এ বছর বিপুলসংখ্যক মুসল্লি ইতিকাফে বসেছেন। সাধারণত ২০ রমজান থেকে সুন্নত ইতিকাফ শুরু হলেও এখানে ১ রমজান থেকেই অনেকে নফল ইতিকাফে অংশ নেন। ২২ রমজান পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সুন্নত ইতিকাফে অংশ নিয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৬০০ মুসল্লি।আশরাফুল মাদারিসের মহাপরিচালক মাওলানা নাসীরুল্লাহ জানান, কয়েক বছর ধরে মসজিদে বড় পরিসরে ইতিকাফ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে আয়োজন করা হয়। এরপর থেকে দেশ-বিদেশের মুসল্লিদের অংশগ্রহণ ক্রমেই বেড়েছে। এর আগে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, সিলেট, বগুড়া ও যশোরের অন্যান্য মাদরাসাসংলগ্ন মসজিদেও এমন বড় পরিসরে মুসল্লিরা ইতিকাফে বসেছেন।বিশাল কম্পাউন্ডের ভেতরে চারতলাবিশিষ্ট একটি প্রশস্ত মসজিদে একসঙ্গে সহস্রাধিক মুসল্লি ইতিকাফে অংশ নিয়েছেন। মুসল্লিদের সুবিধার্থে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। ইফতার, রাতের খাবার ও সাহরির ব্যবস্থা নিজস্বভাবে করা হয়েছে। প্রায় ১ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থীসহ শিক্ষক ও কর্মচারীরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছেন।শিক্ষাসচিব হাফেজ মাওলানা সাব্বির আহমাদ জানান, শায়খুল হাদিস মাহমুদুল হাসান গাঙ্গুহি (রহ.)-এর সিলসিলার অনুসারীরা মূলত এখানে ইতিকাফে অংশ নেন। দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক শায়খ ইব্রাহিম আফ্রিকি এই সিলসিলার শীর্ষ ব্যক্তি হিসেবে দেশ-বিদেশ থেকে বহু আলেম ও অনুসারীকে এখানে সমবেত করেছেন।ইতিকাফ চলাকালে দেশ-বিদেশের আলেমরা মুসল্লিদের নসিহত দিচ্ছেন। ভিন্ন ভাষায় বক্তব্য ও জুমার খুতবার অনুবাদ বাংলায় শোনানো হচ্ছে, যাতে মুসল্লিরা সহজে বুঝতে পারেন।স্থানীয় আলেমরা জানিয়েছেন, বিপুলসংখ্যক মুসল্লির উপস্থিতি সত্ত্বেও মসজিদ কর্তৃপক্ষ সুষ্ঠুভাবে ইতিকাফের পরিবেশ বজায় রাখতে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিদেশি মুসল্লিদের জন্য তাদের খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী আলাদা খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।যশোর শহরের বিভিন্ন মসজিদের খতিবরা জানিয়েছেন, মুসল্লিরা মূলত আল্লাহর প্রতি আত্মনিবেদন ও ইবাদতের উদ্দেশ্যে ইতিকাফে বসেন। উপযুক্ত পরিবেশ থাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসল্লি এখানে ইতিকাফে অংশ নিয়েছেন।