• ঢাকা
  • |
  • বুধবার ২৪শে আষাঢ় ১৪৩৩ দুপুর ০২:৪৬:৫১ (08-Jul-2026)
  • - ৩৩° সে:
কাঁথা-বালিশ নিয়ে বিএনপি কার্যালয়ে আশ্রয় নিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা

কাঁথা-বালিশ নিয়ে বিএনপি কার্যালয়ে আশ্রয় নিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা

নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে ঘরবাড়িহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন বিএনপির অঙ্গসংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা। শেষ পর্যন্ত কাঁথা, বালিশ ও প্রয়োজনীয় কিছু আসবাবপত্র নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দলীয় কার্যালয়েই আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।আশ্রয় নেওয়া ওই নেতার নাম জাহিদুল ইসলাম অমি। তিনি নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলার বাঁশিলা গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় বিভিন্ন সময় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন জাহিদুল ইসলাম অমি। তার দাবি, রাজনৈতিক কারণে তিনি পরিবার থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তার নিজস্ব কোনো ঘরবাড়ি নেই। দীর্ঘদিন অন্যের বাড়িতে আশ্রিত হিসেবে থাকার পর বাধ্য হয়ে তিনি এখন উপজেলার মাধনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে বসবাস করছেন।সরেজমিনে দেখা যায়, দলীয় কার্যালয়ের একটি কক্ষে কাঁথা, বালিশ, তোষকসহ প্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রী নিয়ে বসবাস করছেন জাহিদুল ইসলাম অমি। দিনমজুরির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। কাজ শেষে কার্যালয়েই খাওয়া-দাওয়া ও রাতযাপন করেন। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা তীব্র গরম সব পরিস্থিতিতেই সেখানেই থাকতে হচ্ছে তাকে।এ বিষয়ে ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম খান সিরাজ, মাধনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি রায়হান মিনা এবং ছাত্রদলের কর্মী শাকিল খান বলেন, ‘জাহিদুল ইসলাম অমি অত্যন্ত অসহায় ও দলনিষ্ঠ একজন কর্মী। ঘরবাড়ি না থাকায় তিনি বাধ্য হয়ে দলীয় কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। আমরা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের কাছে তার স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানাই।’আশ্রয় নেওয়া জাহিদুল ইসলাম অমি বলেন, ‘বছরের পর বছর অন্যের বাড়িতে আশ্রিত হিসেবে থেকেছি। রাজনৈতিক কারণে আমি পরিবার হারিয়েছি। স্ত্রী, সন্তান ও বাবা আমাকে ছেড়ে চলে গেছেন। অনেকেই আশ্বাস দিলেও কেউ কথা রাখেননি। আমি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই, যেন জীবিকা ও বসবাসের জন্য আমার একটি স্থায়ী ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।’