• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ১৬ই ভাদ্র ১৪৩৩ দুপুর ০১:৫৮:৫৩ (31-Aug-2026)
  • - ৩৩° সে:
এআই দিয়ে অ্যাপ বানিয়ে ৩ দিনে সাড়ে তিন লাখ টাকা আয় কিশোরীর

এআই দিয়ে অ্যাপ বানিয়ে ৩ দিনে সাড়ে তিন লাখ টাকা আয় কিশোরীর

ডেস্ক রিপোর্ট: মাত্র ১৩ বছর বয়সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় একটি অ্যাপ তৈরি করে চীনে আলোচনায় এসেছে ঝু শুহান নামে এক কিশোরী। সন্তানদের পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে এবং তাদের পড়ার অভ্যাস পর্যবেক্ষণে অভিভাবকদের সহায়তা করে অ্যাপটি।শাংহাইয়ের একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শুহানের আগে প্রোগ্রামিংয়ের তেমন অভিজ্ঞতা ছিল না। এআই নিয়ে কাজ শুরু করার প্রায় এক বছরের মধ্যেই সে অ্যাপটি তৈরি করে।গত ২১ থেকে ২৩ আগস্ট চীনের হাংজৌতে অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ের এআই পণ্য বিপণন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় শুহান। সেখানে শুহানের তৈরি অ্যাপটি প্রায় ৯০টি অর্ডার পায়। তিন দিনে এর বিক্রি দাঁড়ায় ১৮ হাজার ইউয়ান,যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা। এই সাফল্যের মাধ্যমে সে প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জন করে এবং পুরস্কার হিসেবে পায় ৫ হাজার ইউয়ান।অ্যাপটির নাম ‘জাইচ্যাং’। এটি মূলত একটি ভার্চুয়াল অভিভাবকের মতো কাজ করে। ব্যবহারকারী নিজের একটি ছবি অ্যাপটিতে আপলোড করলে সেটি সেই ছবির আদলে একটি ভার্চুয়াল অভিভাবক তৈরি করে। এরপর শিশু বাড়ির কাজ করার সময় ক্যামেরার মাধ্যমে তার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়।শিশু পড়াশোনার বদলে মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে কিংবা পড়ার জায়গা ছেড়ে উঠে গেলে অ্যাপের ভার্চুয়াল অভিভাবক কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে তাকে সতর্ক করে। পড়াশোনা শেষে অ্যাপটি শিশুর মনোযোগের ওপর একটি প্রতিবেদনও তৈরি করে।নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই অ্যাপটি তৈরির ধারণা পেয়েছে বলে জানিয়েছে শুহান। তার বাবা-মা কাজে ব্যস্ত থাকায় পড়ার সময় সবসময় তার পাশে থাকতে পারতেন না। ফলে পড়ার সময় তার মনোযোগ অন্যদিকে চলে যেত এবং কখনো কখনো সে লুকিয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করত। সহপাঠীদের মধ্যেও একই সমস্যা দেখতে পেয়ে এ ধরনের একটি ডিজিটাল সহায়কের কথা ভাবেন তিনি।প্রোগ্রামিংয়ে অভিজ্ঞতা কম থাকলেও এআইয়ের সহায়তায় অ্যাপটির মূল কার্যক্রম তৈরি করেন শুহান। নিজের ধারণা সাধারণ ভাষায় এআইকে বোঝানোর পর এআই তাকে কাজের কাঠামো তৈরি ও প্রয়োজনীয় কোড তৈরিতে সহায়তা করে। অ্যাপটির মূল কার্যক্রম তৈরি করতে তার তিন থেকে চার দিন সময় লাগে।শুহান শুরুতে অ্যাপটিতে শিশুদের বারবার মনোযোগ হারানোর বিষয়টি অভিভাবকদের জানাতে একটি সুবিধা রেখেছিল। পরে সেটি বাদ দেয়। তার ভাষ্য, শিশুদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি না করে বরং কোমলভাবে তাদের মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করাই তার লক্ষ্য।শুহানের ছোট ভাইও অ্যাপটির প্রাথমিক ব্যবহারকারীদের একজন। ভাইয়ের ওপর অ্যাপটি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা তাকে এটি আরও উন্নত করতে উৎসাহিত করেছে। ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষের কাছে কম খরচে অ্যাপটি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।মাত্র ১৩ বছর বয়সে প্রোগ্রামিংয়ের অভিজ্ঞতা ছাড়াই এআইয়ের সহায়তায় ব্যবহারযোগ্য একটি অ্যাপ তৈরি এবং সেটি প্রতিযোগিতায় বিক্রি করে সাফল্য পাওয়ার ঘটনা চীনে এআইভিত্তিক নতুন প্রজন্মের উদ্যোগের একটি আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে।সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট